খাদ্য ও পানীয়ের প্যাকেটের গায়ে সতর্কীকরণ লেবেল আরও স্পষ্ট করার উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সফট ড্রিংক্স থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নুন ও ফ্যাটের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্যাকেটের সামনে সহজে চোখে পড়ার মতো সতর্কীকরণ লেবেল ব্যবহারের প্রস্তাব উঠতেই আপত্তি জানিয়েছে খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে পাওয়া বহু সফট ড্রিংক্স, মিষ্টি পানীয় এবং প্যাকেজড ফুডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চিনি, সোডিয়াম বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকতে পারে। নিয়মিত ও অতিরিক্ত পরিমাণে এই ধরনের খাবার খাওয়ার সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। তাই সাধারণ ক্রেতা যাতে প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য দেখে সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সে জন্য সামনের অংশে সতর্কীকরণ চিহ্ন বা লেবেল দেওয়ার দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির যুক্তি, নির্দিষ্ট কোনও উপাদানের মাত্রা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং তার ভিত্তিতে সতর্কীকরণ লেবেল বসানো হবে, তা নিয়ে আরও স্পষ্ট ও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড প্রয়োজন। শিল্পমহলের একাংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত সতর্কীকরণ লেবেল পণ্যের বিষয়ে ক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে এবং ব্যবসায়িক প্রভাব ফেলতে পারে।
এখানে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্যশিল্পের ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া এবং সহজবোধ্য লেবেলিং ব্যবস্থা চালু করা হলে ক্রেতারা আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ফলে সফট ড্রিংক্স ও প্যাকেজড ফুডে সতর্কীকরণ লেবেল নিয়ে বিতর্ক শুধু শিল্প বনাম সরকারের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জনস্বাস্থ্য। আগামী দিনে নিয়মকানুন কীভাবে চূড়ান্ত হয়, সেদিকেই নজর থাকছে।