‘বন্দে মাতরম’ গান নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কংগ্রেস। দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে। মহাত্মা গাঁধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতামত ও সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়েই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস।
স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তবে গানটির সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। বিশেষত পরবর্তী স্তবকগুলিতে ধর্মীয় ভাবনার উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সেই কারণেই প্রথম দুই স্তবককে সামনে রেখে দলীয় কর্মসূচিতে গানটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস।
ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কংগ্রেসের বক্তব্য, জাতীয় ঐক্য এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদাও বজায় রাখতে চায় দল।
কংগ্রেসের তরফে আরও বলা হয়েছে, মহাত্মা গাঁধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অতীতে ‘বন্দে মাতরম’-এর ব্যবহার ও পরিবেশনা নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক অবস্থানের ধারাবাহিকতা হিসাবেই দেখছে কংগ্রেস।
এই সিদ্ধান্তের পর ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় অনুভূতি এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে আগামী দিনে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।