নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার তিমুরে এবং সংলগ্ন এলাকায় ভোটেকোশি নদীতে আচমকাই জলের স্তর বেড়ে যায়। প্রবল কাদামাটি ও জলের স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে খেলনার মতো দুমড়ে-মুচড়ে ভেসে যায় একাধিক বাড়ি, যানবাহন, সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৫৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং নিখোঁজ বহু মানুষ। খোঁজ মিলছে না ১৩৩ জন ভারতীয় পর্যটকেরও। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অনেকের নাম রয়েছে নিখোঁজের তালিকায়। দুর্গত এলাকায় নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল পুলিশ যৌথ ভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। হেলিকপ্টারের সাহায্যেও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এর পরেও পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। উজানে নদীর গতিপথে একটি বাধা তৈরি হওয়ায় ফের জলোচ্ছ্বাস বা দ্বিতীয় দফার বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সেই কারণেই নদীর তীরবর্তী এবং নীচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিহারে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
একাধিক নদী নেপাল থেকে ভারতের বিহারে প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম গণ্ডক এবং কোশী। নেপালে আচমকা জলস্তর বাড়ার ফলে সেই জল ভারতের দিকে নেমে এলে বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
বিহারের প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতিতে নজর রাখছে। পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, মুজফ্ফরপুর এবং বৈশালীর মতো জেলাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গণ্ডক নদীতে আচমকা জলস্তর বাড়ার আশঙ্কায় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।