তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া অবস্থান নতুন নয়। প্রকাশ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হলেও নিচুতলায় দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সৌজন্যের সম্পর্ক নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সেই আলোচনা ফের সামনে এসেছে।
বিজেপির অন্দরের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূলের সঙ্গে কোনও রকম রাজনৈতিক সমঝোতা নেই বলে দলীয় নেতৃত্ব বারবার বার্তা দিলেও স্থানীয় স্তরে ছবিটা সবসময় এক রকম নয়। কোথাও সৌজন্য সাক্ষাৎ, কোথাও আবার একে অপরের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি—এমন নানা ঘটনাকে ঘিরে দলের কর্মীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে কৌতূহল।
বিশেষ করে কোনও কোনও ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রতি বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের ‘উদারতা’ নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। দলের নিচুতলার একাংশের প্রশ্ন, রাজনৈতিক ভাবে যখন তৃণমূলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, তখন স্থানীয় স্তরে এই ঘনিষ্ঠতার কারণ কী?
এই পরিস্থিতিতেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ‘সঙ্গদোষ’ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালানোর পরও যদি স্থানীয় স্তরে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, তা হলে দলের কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অবস্থান অনেক সময় পাশাপাশি চলে। সৌজন্য বা ব্যক্তিগত যোগাযোগকে সরাসরি রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। যদিও বিজেপির নিচুতলায় তৈরি হওয়া এই আলোচনা ভবিষ্যতে দলের স্থানীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।