নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: আরজি কর-কাণ্ডে তরুণী চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি দাহের অভিযোগের তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ পুলিশের। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হল পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-কে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাজ্য পুলিশের একটি দল তাঁকে বেঙ্গালুরু থেকে পাকড়াও করে।
আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার ঘটনায় তাঁর পরিবারের তরফে অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে মামলা দায়ের করে খড়দহ থানার পুলিশ। সেই এফআইআরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি সোমনাথ দে-র নামও ছিল। অভিযোগ ছিল, দেহ দাহের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টায় অভিযুক্তদের ভূমিকা ছিল।
নতুন মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই সোমনাথের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, তিনি বার বার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন এবং ফোন ও সিম কার্ডও বদলাচ্ছিলেন। ওড়িশা এবং হায়দরাবাদেও তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান বেঙ্গালুরুতে জানতে পেরে সেখানে পৌঁছয় পুলিশের দল।
এর আগে এই মামলায় প্রাক্তন পানিহাটি বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে সোমনাথের গ্রেফতারির মাধ্যমে এই মামলায় নাম থাকা তিন অভিযুক্তই পুলিশের হাতে এলেন।
জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর আদালতে সোমনাথকে তোলা হবে। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে এনে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেহ দাহের ঘটনায় তাঁর ঠিক কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।
দীর্ঘ দু’বছর পর আরজি কর-কাণ্ডের দেহ দাহ পর্ব নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় সোমনাথের গ্রেফতারি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন তাঁর জিজ্ঞাসাবাদে এই ঘটনায় আরও কোনও ব্যক্তি বা অন্য কোনও ভূমিকা সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।