চিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের সৌরশক্তি উৎপাদন ও সৌর সরঞ্জাম তৈরিতে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্র। সেই নীতিই এ বার দেশের বেশ কিছু সৌর প্যানেল প্রস্তুতকারক সংস্থার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি শিল্পমহলের একাংশের। কাঁচামালের জোগান, উৎপাদন খরচ এবং বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের জেরে বহু কারখানা কার্যত সঙ্কটের মুখে।
ভারতে সৌর প্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে চিনা পণ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে গত কয়েক বছরে একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ‘প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ (PLI)-এর মতো প্রকল্প এবং নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত নির্মাতাদের কাছ থেকেই সৌর মডিউল কেনার নীতি নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল দেশের নিজস্ব সৌর-উৎপাদন পরিকাঠামো শক্তিশালী করা।
তবে শিল্পমহলের অভিযোগ, নীতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলি সমস্যায় পড়েছে। বিশেষ করে সৌর প্যানেল তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উপকরণের জোগান এবং দামের ক্ষেত্রে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। চিনা সংস্থাগুলির সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও কঠিন হয়ে উঠছে বলে দাবি তাঁদের।
এর ফলে বেশ কিছু কারখানায় উৎপাদন কমানো, কর্মী ছাঁটাই কিংবা সাময়িক ভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে শিল্পক্ষেত্রে আলোচনা শুরু হয়েছে। আশঙ্কা, এই প্রবণতা চলতে থাকলে দেশে সৌর প্যানেল উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে উল্টে কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
যদিও কেন্দ্রের যুক্তি, স্বল্পমেয়াদি সমস্যার তুলনায় দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় সৌরশিল্পকে শক্তিশালী করাই নীতির মূল লক্ষ্য। আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশে পুরো সরবরাহশৃঙ্খল গড়ে তুলতে সময় লাগবে। সেই পরিবর্তনের পর্যায়ে কিছু সংস্থাকে প্রতিযোগিতার চাপ সামলাতে হচ্ছে।
ভারতের সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেশীয় উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চিনা নির্ভরতা কমানোর নীতি এবং দেশীয় নির্মাতাদের টিকিয়ে রাখার মধ্যে ভারসাম্য কী ভাবে বজায় রাখা যায়, এখন সেটিই কেন্দ্রের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।