বিহারের ভুয়ো মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের নথি দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছিল পাঁচ জনের বিরুদ্ধে। তাঁদের সকলেরই মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন খারিজ করেছে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল। এঁদের মধ্যে দু’জন সরকারি চাকরি করতেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সেই দু’জন— উত্তম মাইতি এবং শেখ ইউনূস হাসানকে বরখাস্ত করেছে বৃহস্পতিবার। রাজপুর-সোনারপুরের একটি পুর–স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ন্যাশনাল হেলথ মিশন (এনএইচএম)–এর অধীনে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক হিসেবে তাঁরা কর্মরত ছিলেন।
অভিযোগের সূত্রপাত ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম’-এর তরফে ওই পাঁচ ভুয়ো চিকিৎসকের নথি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর। জানা গিয়েছে, এই দু’জন–সহ ওই পাঁচ জনই বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের জাল নথি দেখিয়ে এ রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তাঁদের রেজিস্ট্রেশনের সত্যতা যাচাই করতে বিহারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজ্য। সপ্তাহ দুয়েক আগে বিহার কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের রেজিস্ট্রার জানান, এঁকের রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্র বৈধ নয়।
এর পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই দু’জনকে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য জানানোর জন্য নোটিস পাঠায় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, তাঁরা হাজির হননি। কোনও জবাব না মেলায় বৃহস্পতিবার বরখাস্তের চিঠি পাঠানো হয়। অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, ‘স্বাস্থ্য দপ্তরের পদক্ষেপকে স্বাগত। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় তাঁদের নিয়োগের জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।’