রাজ্যের দুই প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়— যাদবপুর এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিটেক পাঠ্যক্রমে বিপুল সংখ্যক আসন ফাঁকা রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে এখনকার অনলাইনে বিকেন্দ্রীভূত বা ডিসেন্ট্রালাইজ়ড কাউন্সেলিং বাতিল করে ঐতিহ্যবাহী অফলাইন পদ্ধতির আবেদন জানিয়েছেন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা।
চলতি বছর প্রথমবার রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড অনলাইনে এই বিকেন্দ্রীভূত কাউন্সেলিং করাচ্ছে। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার দু’টি পর্যায় (১১-১৬ সেপ্টেম্বর এবং ১৭-২৫ সেপ্টেম্বর) শেষ হওয়ার পরেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১৯০টি বিটেক আসনের মধ্যে ২৫০টির বেশি (প্রায় ২০%) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৭৮টি আসনের মধ্যে ১৪০টির বেশি (প্রায় ৩০%) আসন ফাঁকা পড়ে আছে। আগের বছরগুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মেধার ভিত্তিতে নিজেদের উদ্যোগেই অফলাইনে শূন্য আসন পূরণ করত। তখন সেন্ট্রালাইজ়ড কাউন্সেলিংয়ের পরে যাদবপুরে ১৫০-১৮০টি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০-৩০টি আসন ফাঁকা থাকত, যা অফলাইনে সহজেই পূরণ হয়ে যেত।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ইতিমধ্যে উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে চিঠি দিয়ে অফলাইন কাউন্সেলিংয়ের অনুমতি চেয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হচ্ছে। এত আসন ফাঁকা থাকায় রাজ্যের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে অফলাইন কাউন্সেলিংয়ের দাবিতে শিগগিরই সরকারকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাউন্সেলিং শেষ হওয়ার পরে শূন্য আসনের ম্যাট্রিক্স হাতে পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই অনলাইন প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের স্পষ্ট মত, অবিলম্বে অফলাইন কাউন্সেলিং শুরু না–হলে এই বিপুল সংখ্যক শূন্য আসন পুরোপুরি ভর্তি করা সম্ভব হবে না।