বন্যার জলে ডুবে রয়েছে ঘাটাল, হচ্ছে চাষের ক্ষতি



ঘাটাল: নাগাড়ে বাড়ছে নদীগুলির জলস্তর। সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে মানুষের দুর্ভোগ। বস্তুত, এই মূহূর্তে চন্দ্রকোণা ও ঘাটালের জনজীবনের ছবিটা এমনই। এই দুই এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। একেই এ বার আলু চাষে ভরাডুবির সম্মুখীন হয়েছেন কৃষকেরা। উচিত দাম না মেলায় লাভ দূরের কথা, চাষের খরচটুকু পর্যন্ত ওঠেনি। এমনকী আলুচাষির আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। চাষিদের অনেকে আশায় ছিলেন, আলুর ক্ষতির ধাক্কা আমন ধান চাষ করে কিছুটা সামলে নেবেন। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় সেটাও আদৌ সম্ভব হবে কি না আশঙ্কায় তাঁরা। বন্যার জলে ডুবে রয়েছে বিঘার পর বিঘা জমি। ধান ছাড়াও চন্দ্রকোণায় প্লাবিত এলাকাগুলিতে আনাজ চাষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে।

শিলাবতী ও কেঠিয়া নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে চন্দ্রকোণার দু’টি ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েত। সব থেকে খারাপ অবস্থা চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের জাড়া,মানিককুন্ডু, মনোহরপুর-১, মনোহরপুর-২ পঞ্চায়েতের। কুলদহ, পাইকপাড়া, চাঁদুর, সীতারামপুর, নিশ্চিন্তপুর, বাঁকা সুলতানপুর, মানিককুন্ডু প্রভৃতি গ্রামে ধান চাষের পাশাপাশি আনাজ চাষ করে থাকেন চাষিরা। ভারী বৃষ্টিতে দিন চারেক আগেই জমিতে জল দাঁড়িয়ে যায়। তার উপরে নদীর জল মাঠে ঢুকে ডুবে গিয়েছে বিঘার পর বিঘা আনাজ চাষ। নদীর জল না কমা পর্যন্ত প্লাবিত এলাকা থেকে জল নামতে সময় লাগবে। ততদিনে আনাজ চাষ কতটা বাঁচানো যাবে, সংশয়ে চাষিরা।

বুদ্ধদেব ভুক্তা বলেন, ‘এ বার এক নাগাড়ে দু’দিন বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে গিয়েছিল। সেই জল নামার আগেই শিলাবতী আর কেঠিয়া নদীর জল বেড়ে গিয়ে এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চাষ কতটা বাঁচানো যাবে জানি না। সব নষ্ট হয়ে গেলে সংসার চলবে কী করে’? মানস দোলই, ক্ষুদিরাম মাখাল বলেন, ‘তিল, আলু চাষ করে লাভের জায়গায় দেনা হয়ে গিয়েছে। ধানের ফলন ঠিকঠাক হলে কিছুটা সামাল দেওয়া যাবে ভেবেছিলাম। এখন যা অবস্থা তাতে মাঠ থেকে জল নামতে এক সপ্তাহের উপরে লেগে যাবে। তাতে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।’

চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের সহ–কৃষি অধিকর্তা সৌমিত্র মোহান্তি বলেন, ‘ধানগাছ বড় হলে তারপরে ফলন শুরু হয়। ফলন শুরু হতে আরও কিছুদিন লাগবে। তার মধ্যে আশা করি মাঠ থেকে জল নেমে যাবে। তবে আনাজ চাষের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি জল কমলে সরেজমিন খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’ ঘাটালের মহকুমাশাসক অনন্য জানা, বিডিও অভীক বিশ্বাস, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য, বিধায়ক শীতল কপাট সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা রবিবার ঘাটাল ব্লকের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। দুর্গতদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে মাঠ থেকে কখন জল নেমে যাবে তারই অপেক্ষায় দিন গুনছেন চাষিরা।


Post a Comment

Previous Post Next Post