২২ জেলার অনাস্থা, চাপ বাড়ছিল বাবুনের উপর
বাবুনের বিরুদ্ধে অসন্তোষটা অবশ্য এক দিনে তৈরি হয়নি। রাজ্যের ২২টি জেলা টেবল টেনিস সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে। শুধু অনাস্থাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছিল বলে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে সভাপতির চেয়ার নিয়ে চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসনে বাবুনের উপস্থিতিও ছিল বেশ বিস্তৃত। টেবল টেনিসের পাশাপাশি বক্সিং, হকি ও কবাডির রাজ্য সংস্থার শীর্ষ পদে থেকেছেন তিনি। মোহনবাগানের ফুটবল প্রশাসনেও দায়িত্ব সামলেছেন। অর্থাৎ একাধিক খেলায় প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা বাবুনের সেই দীর্ঘ উপস্থিতি এখন অনেকটাই অতীত।
একের পর এক পদ, এ বার সামনে স্পোর্টস কোডের প্রশ্ন
বাবুনের পদত্যাগের সময়টা নিয়েও তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের নতুন স্পোর্টস কোডে ক্রীড়া প্রশাসনে একজন ব্যক্তির একাধিক পদে থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ আসছে। বর্তমানে বক্সিং ফেডারেশনেও যুগ্মসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন বাবুন। ফলে টেবল টেনিসের সভাপতির পদ ছাড়ার সঙ্গে নতুন নিয়মের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর পদত্যাগপত্রে সরে দাঁড়ানোর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
তবে ঘটনাটা শুধু একটি পদ ছাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাংলার ক্রীড়া প্রশাসনে দীর্ঘ দিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বাবুনের হাতে থাকা আর একটি পদও এ বার গেল। ফলে তাঁর প্রশাসনিক পরিসর যে আগের তুলনায় অনেকটাই ছোট হলো, তা বলাই যায়।
রাজনৈতিক পালা বদলের পরও চেয়ার আঁকড়ে থাকার অভিযোগ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পরেও বাবুন টেবল টেনিসের সভাপতির পদে ছিলেন। সেই সময় তাঁকে ঘিরে পদ আঁকড়ে থাকার অভিযোগও উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ২২টি জেলা সংস্থার অনাস্থা এবং লিখিত অভিযোগের পরিস্থিতিতে তাঁর পদত্যাগ নতুন করে সেই বিতর্ক সামনে নিয়ে এল। তবে পদত্যাগের চিঠিতে তিনি রাজনৈতিক পালা বদল, অনাস্থা বা স্পোর্টস কোড— কোনও বিষয়কেই নিজের সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে স্পষ্ট করেননি। তাই তাঁর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ঠিক কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
একাধিক পদে দীর্ঘ দিন থাকা বাবুনের এই পদত্যাগ তাই শুধু একটি প্রশাসনিক বদল নয়। ২২ জেলা সংস্থার অনাস্থার পর তাঁর সরে দাঁড়ানোয় বাংলার টেবল টেনিস প্রশাসনের সমীকরণও বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।