তৃণমূল-কংগ্রেস দলের নাম, প্রতীকচিহ্ন ফ্রিজ করা হল, সব নতুন করতে হবে মমতা-ঋতব্রতদের, সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের



কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস নামটি এবং দলের প্রতীক ঘাসফুল ফ্রিজ করল নির্বাচন কমিশন। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’র সঙ্গে আজ পৃথক পৃথক বৈঠক হয়। এর পরই রাতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হল। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির নাম এবং তাদের জোড়াফুল প্রতীকচিহ্নটি ফ্রিজ করে দেওয়া হল। সামনেই নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার জন্য নির্বাচন কমিশনের 'ফ্রি সিম্বলে'র মধ্যে থেকে কিছু বেছে নিতে হবে দুই শিবিরকে।
কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসার পর নিজের নতুন দল গড়েছিলেন মমতা। নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন তৃণমূল। দলের প্রতীকচিহ্নও তাঁরই হাতে আঁকা বলে জানা যায়। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি সূচনা হয় তৃণমূলের। সেই থেকে গত ২৮ বছর ধরে ওই নাম এবং প্রতীকচিহ্ন ব্যবহার করেই একের পর এক নির্বাচনে লড়াই করেছেন তাঁরা। কিন্তু ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই সব বদলে গেল। দল ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছিল আগেই। টানাপোড়েন চলছিল দলের নাম এবং প্রতীকচিহ্নের উপর অধিকার নিয়েও। শেষ পর্যন্ত দলের নাম এবং প্রতীকচিহ্নও হাতছাড়া হল মমতার।

অন্তর্বর্তী নির্দেশেক বিরোধিতা করে গত কয়েক দিন ধরে সওয়াল করছিল মমতাপন্থী তৃণমূল। কিন্তু এদিন অন্তর্বর্তী নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়েছে, দু'পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। শুনানী হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়েছে, পিটিশনার অরূপ রায় এবং রেসপন্ডেন্ট মমতাকে জানানো হচ্ছে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামটি কোনও পক্ষই আপাতত ব্যবহার করবে না। ঘাসের উপর জোড়াফুলের যে চিহ্ন, তাও ব্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষ।

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, দু'টি গোষ্ঠীকেই আপাতত আলাদা নাম দেওয়া হবে। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নাম বেছে নিতে হবে তাদের। দলের আসল নামের কাছাকাছি, তার সঙ্গে সংযোগ রেখে নাম বেছে নেওয়া যাবে আপাতত। পাশাপাশি, দু'টি গোষ্ঠীকেই আলাদা প্রতীকচিহ্ন দেওয়া হবে। কমিশনের ফ্রি সিম্বলের তালিকা থেকে বেছে নিতে হবে কিছু। সেই প্রতীকচিহ্ন ব্যবহার করেই দুই শিবিরের প্রার্থীরা নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে ভোটে লড়বেন। কমিশন জানিয়েছে, আপাতত নতুন নাম ও প্রতীকচিহ্ন নিয়েই লড়তে হবে দুই শিবিরকে। আগামী কাল বেলা ১১টার মধ্যে তিনটি করে বিকল্প নামের প্রস্তাব জমা দিতে হবে তাদের। ফ্রি সম্বলের মধ্যে থেকে বেছে নিতে হবে তিনটি করে। সেখান থেকেই পৃথক পৃথক নাম ও প্রতীকচিহ্ন দেওয়া হবে তাদের।

যে ১৪ পাতার নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রথম ১০ পাতায় আজ পর্যন্ত কী কী ঘটেছে, কে কী নথি জমা দেয়, কী কথা হয়, তার উল্লেখ রয়েছে। শেষ দুই পাতায়র দুই পয়েন্টে রয়েছে তাদের নির্দেশ। উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ বলে জানানো হয়েছে। তবে এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। 


Post a Comment

Previous Post Next Post