কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ কার দখলে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনের আগে প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, আপাতত ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে দুই শিবিরের মধ্যে আইনি ও সাংগঠনিক টানাপোড়েন চলছে। সেই মামলাতেই শনিবার দুই পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য পেশের জন্য ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রথমে কমিশনের সামনে হাজির হয় ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবির। পরে বক্তব্য পেশ করে ‘কালীঘাট তৃণমূল’।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল কমিশনে যায়। শুনানি শেষে ঋতব্রত দাবি করেন, “তৃণমূল কারও বাবার দল নয়।” তাঁর বক্তব্য, আসল তৃণমূলের প্রতীক তাঁদের হাতেই থাকা উচিত। প্রতীকের দখল নিয়েও নিজেদের দাবি স্পষ্ট করেছে ঋত শিবির।
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের তরফে কমিশনের সামনে বক্তব্য রাখেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরাও ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকের দাবিদার বলে স্পষ্ট করেছেন। তবে কমিশনের সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা ইঙ্গিতও দিয়েছেন কল্যাণ।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এখন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনের আগে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। তার বদলে আপাতত প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দুই পক্ষকেই বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বলা হতে পারে।
অবশ্য কমিশন যদি কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেয়, সে ক্ষেত্রে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই উপনির্বাচনেই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করে লড়াই করার প্রস্তুতি রয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের। ফলে এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে দুই শিবির।