নামী বিদেশি সংস্থা ছেড়ে আইএএস! তাঁর হাত ধরেই কলের জলের স্বাদ পায় গ্রাম! কেন আচমকা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দিব্যার?


নয়াদিল্লি: মোটা বেতনের নামী বিদেশি সংস্থার চাকরি ছেড়ে প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য কাজ করা। সেই লক্ষ্যেই আইএএস হয়ে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিয়েছিলেন পানীয় জলের পরিষেবা। তাঁর উদ্যোগেই বহু মানুষ প্রথম বার বাড়ির কাছে কলের জলের সুবিধা পান। সেই দিব্যা আচমকা প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, কেন এমন সিদ্ধান্ত?
দিব্যার কেরিয়ার শুরু হয়েছিল একটি নামী বিদেশি সংস্থায়। কর্পোরেট জগতের নিরাপদ এবং আকর্ষণীয় চাকরি ছেড়ে তিনি বেছে নেন সিভিল সার্ভিসের কঠিন পথ। আইএএস হওয়ার পর প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাঁর নজর পড়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার দিকে। বিশেষ করে নিরাপদ পানীয় জলের অভাব তাঁকে ভাবিয়ে তোলে।
এর পরই জল সরবরাহের পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নেন তিনি। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রামগুলিতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। যে সমস্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছিলেন বাসিন্দারা, সেখানেও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে গ্রামের বহু পরিবার বাড়িতে কলের জল পাওয়ার সুযোগ পায়।
প্রশাসনিক মহলে কাজের জন্য প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন দিব্যা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং সেই অনুযায়ী সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা ছিল তাঁর কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তবে সেই দিব্যাই এবার আইএএসের চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আচমকা পদত্যাগের খবরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে জল্পনা। ব্যক্তিগত কারণ, প্রশাসনিক কাজের চাপ, নাকি অন্য কোনও পেশাগত পরিকল্পনা—ঠিক কী কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
যদিও পদত্যাগের নেপথ্যে তাঁর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ফলে নানা জল্পনা থাকলেও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে প্রশাসনে এসে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার যে চেষ্টা করেছিলেন দিব্যা, তাঁর সেই কাজ ইতিমধ্যেই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post