মালদহ: মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান ঘিরে উদ্বেগের মধ্যেই বড় পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দফতরের। শুধু অগস্ট মাসেই ৮৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য সামনে আসার পর বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে হাসপাতালের সুপারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, মালদহ মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগে গত কয়েক মাসে একাধিক শিশুর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। বিশেষ করে অগস্ট মাসের মৃত্যুর সংখ্যা সামনে আসার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করে স্বাস্থ্য দফতর। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের একটি দল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের পরিকাঠামো, শিশু বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা, রোগীর চাপ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখেন বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা। তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে জমা পড়ার পরই হাসপাতালের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে বারবারই দাবি করা হয়েছে, মালদহ মেডিক্যালে দূরদূরান্ত থেকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় বহু শিশুকে ভর্তি করা হয়। ফলে মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে শুধুমাত্র হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার গাফিলতিকে সরাসরি যুক্ত করা যায় না। অনেক শিশুকে গুরুতর অবস্থায় অন্য হাসপাতাল থেকে রেফার করেও আনা হয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
তার পরেও এক মাসে ৮৯ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্টে ঠিক কী কী ত্রুটি বা সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
সুপারকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিশু চিকিৎসা পরিষেবার পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর। বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর কারণ, চিকিৎসা পরিষেবার মান এবং হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হয় কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।