নিজস্ব সংবাদদাতা: বয়স মাত্র ১৩। যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলো করার কথা, সেই বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে সঞ্জু। ক্যানসারে মাকে হারানোর পর অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ জোগাতে ট্রেনে চা বিক্রি করছে সে।
পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। মায়ের চিকিৎসার দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তাঁকে হারিয়েছে সঞ্জু। বর্তমানে বাবাও অসুস্থ। নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন হলেও সংসারে সেই খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত আয় নেই। তাই বাধ্য হয়েই ট্রেনে উঠে চা বিক্রি করছে কিশোরটি।
প্রতিদিন যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে হাতে চায়ের পাত্র নিয়ে এক কামরা থেকে অন্য কামরায় ঘুরে বেড়ায় সঞ্জু। তার লক্ষ্য একটাই—দিনের শেষে কিছু টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরা, যাতে বাবার ওষুধ কেনা যায় এবং সংসারের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয়।
সঞ্জুর এই পরিস্থিতি ফের সামনে নিয়ে এসেছে শিশুশ্রম এবং আর্থিক অনটনের কঠিন বাস্তবতা। পড়াশোনার বয়সে একটি শিশুকে কেন জীবিকার জন্য কাজ করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নও উঠছে। দারিদ্র্য, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যের অসুস্থতা এবং অভিভাবক হারানোর মতো পরিস্থিতি কী ভাবে শিশুদের শিক্ষাজীবন থেকে দূরে ঠেলে দেয়, সঞ্জুর জীবন তারই একটি করুণ উদাহরণ।
তবে সঞ্জুর মতো শিশুর ক্ষেত্রে শুধু সহানুভূতিই যথেষ্ট নয়। তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, পরিবারের চিকিৎসা ও ন্যূনতম জীবিকার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসন ও সমাজের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছনো জরুরি। ১৩ বছরের সঞ্জুর হাতে চায়ের পাত্র নয়, বই-খাতা তুলে দেওয়ার দাবিই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠছে।