মিছিলে বাজনার শব্দ কমানোর অনুরোধ করায় খুন দুই গ্রামবাসীকে! ২৯ বছর আগের ঘটনায় দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কান্দি আদালতের


তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল বচসা। সেই বচসাই মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকার নেয়। মিছিলের বাজনার শব্দ কিছুটা কমানোর অনুরোধ করেছিলেন দুই গ্রামবাসী। অভিযোগ, সেই অনুরোধই কাল হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের উপর হামলার জেরে মৃত্যু হয় দু’জনের। প্রায় ২৯ বছর আগের সেই জোড়া খুনের ঘটনায় অবশেষে সাজা ঘোষণা করল মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা আদালত। মামলায় ১৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
ঘটনাটি ১৯৯৮ সালের ২৪ মে। মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার মুন্সিপুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে একটি মিছিল যাচ্ছিল। মিছিলের সঙ্গে জোরে বাজনা বাজছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় উল্টো দিক থেকে মহিষের গাড়ি নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রামের দুই বাসিন্দা। মিছিলের বিকট শব্দে মহিষগুলি ভয় পেয়ে বা উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন তাঁরা।
সেই কারণেই মিছিলের উদ্যোক্তা এবং সমর্থকদের কাছে বাজনার শব্দ কিছুটা কমানোর অনুরোধ করেছিলেন ওই দুই গ্রামবাসী। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের সেই অনুরোধ মেনে নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি নিয়ে মিছিলের কয়েক জন সমর্থকের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। কথা কাটাকাটি ক্রমশ বাড়তে থাকে। একসময় পরিস্থিতি হাতাহাতির দিকে গড়ায়।
অভিযোগ, মিছিলে থাকা কয়েক জন ওই দুই গ্রামবাসীর উপর চড়াও হন। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনই রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁদের বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর মুন্সিপুর গ্রামে শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। মৃতদের পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় এই জোড়া খুনের ঘটনায়।
প্রায় তিন দশক ধরে চলা মামলায় অবশেষে কান্দি মহকুমা আদালতে সাজা ঘোষণা হল। আদালত ১৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। ২৯ বছর আগের সেই ঘটনার রায় ঘোষণার পর ফের আলোচনায় এসেছে মুন্সিপুর গ্রামের সেই জোড়া খুনের ঘটনা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আদালতের রায়ে স্বস্তি মিলেছে মৃতদের পরিবারের, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁদের পরিজনেরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post