জোয়ারের জলে তলিয়ে গেল ৩০০ মিটার নদীবাঁধ, গোসাবায় আতঙ্ক


গোসাবা: কৌশিকী অমাবস্যার ভরা কটালের জেরে সুন্দরবনে নদী বাঁধে ভয়াবহ ধস নামল গোসাবা ব্লকের সাতজেলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দয়াপুর গ্রামের বীণাপাণি এলাকায়। প্রায় ৩০০ মিটার নদী বাঁধ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে দুই দফায় এই ধস নামে। তার জেরে চরম আতঙ্কে রয়েছে দয়াপুরের কয়েক হাজার মানুষ।
এ দিন সকালেই প্রথমে বাঁধে বড় ফাটল দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ১০০ মিটার এলাকা জুড়ে নদী বাঁধ এবং সুন্দরবনের রক্ষাকবচ ম্যানগ্রোভের চর নদীতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সেচ দপ্তরের গোসাবা ডিভিশনের এসডিও শুভদীপ দালাল। তাঁর নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে তিনটি জেসিবি মেশিন নামিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধস মেরামতের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। জোয়ারের জলের তোড়ে ফের একই জায়গায় বড়সড় ধস নামে। আরও প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে ধসের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ মিটার।
বর্তমানে জোয়ারের জলের তোড়ে মেরামতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবুও সেচ দপ্তরের কর্মীরা দিন-রাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সামনেই আবার ভরা কটাল। তার আগে এই বিশাল এলাকা জুড়ে বাঁধে ধস নেমে যাওয়ায় রাতের ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের। যে কোনও মুহূর্তে নোনা জল ঢুকে গোটা গ্রাম, চাষের জমি ও মিষ্টি জলের পুকুর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য চন্দন মণ্ডল বলেন, 'ধস মেরামতের জন্য আমরা সেচ দপ্তরের সব রকম সহযোগিতা পাচ্ছি। কিন্তু প্রতি বছর মাটির বাঁধ ভাঙছে। আমাদের স্থায়ী সমাধান দরকার। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এখানে দ্রুত কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করা হোক।'

ওই এলাকার আতঙ্কিত গ্রামবাসী নিশিকান্ত মণ্ডল বলেন, 'আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে বাস করি। যখন তখন বাঁধ ভেঙে গ্রাম ভেসে যেতে পারে। এই মাটির বাঁধ ধসে গিয়েছে, জানি না কখন নদীর নোনা জল গ্রামে ঢুকে যাবে।' গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, মাটির বাঁধ দিয়ে আর রক্ষা করা সম্ভব নয়। স্থায়ী ভাবে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ না হলে কটালের জলে ভেসে যেতে পারে গোটা দয়াপুর।

Post a Comment

Previous Post Next Post