আমেরিকার মাটিতে পা রাখার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই ‘ডাঙ্কি’ বা চোরাপথে আমেরিকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন গুজরাটের তিন বাসিন্দা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়লেন তাঁরা। আমেরিকায় পৌঁছনোর আগেই ইথিওপিয়ায় ওই তিন ভারতীয়কে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁদের পরিবারের কাছে প্রায় ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলেও খবর।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপহৃত তিন জনই গুজরাটের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে এক জন তরুণ এবং বাকি দু’জন তরুণী। স্থানীয় এক এজেন্টের মাধ্যমে তাঁরা চোরাপথে আমেরিকায় পৌঁছনোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২০ সেপ্টেম্বর গুজরাট থেকে প্রথমে জয়পুরে পৌঁছন তাঁরা। এরপর বিমানপথে আবু ধাবি হয়ে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যান।
সূত্রের খবর, ইথিওপিয়ায় পৌঁছনোর পর ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁদের একটি গেস্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে থাকার সময়ই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, এক দল দুষ্কৃতী ওই তিন ভারতীয়কে অপহরণ করে। এরপর তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রায় ১ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগে পড়েছেন অপহৃতদের পরিবারের সদস্যেরা। কী ভাবে এবং কারা ওই তিন ভারতীয়কে অপহরণ করল, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি।
‘ডাঙ্কি’ বা অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে এর আগেও একাধিক বার সতর্ক করা হয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বহু মানুষ বিপুল টাকা খরচ করে দালাল বা এজেন্টের মাধ্যমে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার পথে পা বাড়ান। কিন্তু এই পথ অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং বিপজ্জনক। ইথিওপিয়ার এই ঘটনাও সেই ঝুঁকিরই একটি উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন মূল লক্ষ্য ওই তিন ভারতীয়কে নিরাপদে উদ্ধার করা। একই সঙ্গে তাঁদের কী ভাবে ইথিওপিয়ায় পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং ওই এজেন্টের সঙ্গে অপহরণকারীদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠছে।