মমতা ও স্বাস্থ্যসচিবের দ্রুত গ্রেপ্তারি চাইছেন অভয়ার মা



পানিহাটি: রাজ্যে সরকার বদল হতেই আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা শেখররঞ্জন দেবনাথ খড়দহ থানায় নতুন এফআইআর দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী কাকু সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরও কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু মেয়ের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নতুন দাবি তুললেন অভয়ার মা, পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ।

শুক্রবার রত্না এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দাবি করেছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব ছিলেন নারায়ণ স্বরূপ নিগম। নতুন সরকারের আমলেও তিনি আজও স্বপদে বহাল। কেন তাঁকে সরানো হয়নি, কেন তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে না, প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন অভয়ার মা।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে চার মাস। তার মধ্যে বিজেপি বিধায়কের এমন মন্তব্য ঘিরে স্বভা বতই অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল বিজেপি। তবে সেখানেই থেমে না থেকে পানিহাটির বিধায়িকার প্রশ্ন, 'কেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এতদিন জেলে যাননি? কেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এখনও বাইরে? তাঁদেরও তো গ্রেপ্তারি চাই।' অভয়ার মায়ের যুক্তি, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম কেন অনুমতি দিয়েছিলেন সেমিনার হলের পাশের ওই দেওয়ালটা ভাঙার?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে যে সেমিনার হলে তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার চার দিনের মাথায় ওই হলের ঠিক উল্টোদিকের ঘরে শুরু হয় সংস্কারের কাজ। অভয়ার মায়ের প্রশ্ন, 'এত দ্রুত এটা করা হলো কেন?' রত্নার আশা, নারায়ণ স্বরূপ নিগমকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেপ্তারির দাবি প্রসঙ্গে অভয়ার মা বলেন, 'তৃণমূল আমলে যখন শিক্ষা দুর্নীতি হয়েছিল তখন শিক্ষামন্ত্রী-সহ গোটা শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা জেলে গিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দুর্নীতির জন্য তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বাইরে রয়েছেন?' বিষয়টি ‍নিয়ে অবশ্য বিজেপি বা তৃণমূলের কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Post a Comment

Previous Post Next Post