গৈরিক মাহাত্ম্য নিয়ে নতুন করে জনমানসে প্রচারে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। বিশেষত গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে গেরুয়া সামনে রেখে অসম্মানের মতো ঘটনার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী, তাতে সচেতনতা গড়ে তোলার কাজ নতুন করে শুরু হচ্ছে। আর সেই পথে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নেতৃত্ব আগামী সপ্তাহে কলকাতায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ হতে চলেছে। গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত সেই মিছিলে আমজনতাকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রবিবার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছে। তা থেকে জানা গিয়েছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার বিকেল ৩টে থেকে এই মিছিল শুরু হবে। গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হবে যাদবপুরে। গেরুয়া স্রেফ একটি রং নয়, তা ত্যাগ, আত্মনিবেদন ও সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক। তাই গেরুয়াকে সম্মান জানিয়ে ও তার মাহাত্ম্য নতুন করে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই মিছিলে শামিল হচ্ছেন। আগে একাধিকবার তিনি জানিয়েছেন, গেরুয়া রংকে সামনে রেখে কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। এমনকী দিন কয়েক আগে এক সংবাদপত্রে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধ নিয়েও তীব্র আপত্তি তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গেরুয়ার সঙ্গে ‘তাণ্ডব’ শব্দ জুড়ে আসলে তার মাহাত্ম্যকেই খাটো করা হয়েছে বলে মনে করেছেন তিনি।
এছাড়া শুভেন্দুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র আরেক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। গোলপার্ক থেকে শুরু করে মিছিলটি যাদবপুরে শেষ করার লক্ষ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া। ‘দেশবিরোধিতা’র সুর চড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রাষ্ট্রবাদ’ প্রতিষ্ঠিত করার কথা আগেই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কথা অনুযায়ী ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সমস্ত স্লোগান মুছে গেরুয়াপন্থী ছাত্ররা শনিবারই লিখে ফেলেছিলেন রাষ্ট্রবাদী স্লোগান। আগামী সপ্তাহে যাদবপুর পর্যন্ত শুভেন্দুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ আসলে সেই রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠাকেই দৃঢ়তর করতে চায় বলে মত একাংশের।