বিদ্যুতের বিপুল বকেয়া ঘিরে ফের চাপের মুখে বাংলাদেশ। পাওনা টাকা সময়মতো না মেলায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। ফলে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ঢাকার প্রশাসনিক মহলে।
ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিদ্যুতের বিল বাবদ বাংলাদেশের কাছে বিপুল অর্থ বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করে আসছে সংস্থাটি। বকেয়া মেটানোর জন্য একাধিকবার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
বকেয়া বাড়তে থাকায় সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদানি পাওয়ার। এর ফলে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের জোগানে চাপ পড়ছে। বিশেষ করে চাহিদা বেশি থাকা সময়ে এই ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান নিয়ে নানা চাপ রয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমদানি উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। বিদ্যুতের দাম, চুক্তির শর্ত এবং বকেয়া পরিশোধ—সবকিছু নিয়েই সময়ে সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বকেয়া মেটানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করাই ঢাকার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিপুল বকেয়া কী ভাবে মেটাবে বাংলাদেশ? আর তত দিন পর্যন্ত আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক থাকবে? বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কার মধ্যে এখন এই দুই প্রশ্নের দিকেই নজর বাংলাদেশ সরকারের।