নেপাল বিপর্যয়ের এক সপ্তাহের মধ্যে তিব্বতে আবার ভূমিকম্প! রিখটার স্কেলে মাত্রা ৫, ফের আসতে পারে বান?


নিজস্ব সংবাদদাতা: নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার তিব্বতে ফের ভূমিকম্প। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ)-এর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৫.০। অন্য একটি রিপোর্টে মাত্রা ৫.১ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল। বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হয়। এক সপ্তাহ পরেও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছে। নেপালে মৃতের সংখ্যা ১,২৫২ ছাড়িয়েছে এবং ৪,২০০-রও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে সর্বশেষ রিপোর্টে জানানো হয়েছে। তিব্বতেও ২১ জনের মৃত্যু এবং ৫৪১ জনের নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে চিন। 
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন ভূমিকম্পে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ইতিমধ্যেই ভূমি অস্থিতিশীল হয়ে রয়েছে। তিব্বতের বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দলকে প্রবল বৃষ্টি, অস্থির ভূপ্রকৃতি এবং দ্রুতগতির নদীর স্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। 
ফের কি আসতে পারে বান?
নতুন ভূমিকম্পের জেরে ফের বড় বন্যা বা বান আসবেই—এমন কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস এখনও নেই। তবে বিপর্যস্ত পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, পাথর ধস বা হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার মতো ঝুঁকি থাকায় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। আগের বিপর্যয়ের পরও তিব্বতে কিছু জায়গায় জলাধার ও নদীর গতিপথ নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। 
উল্লেখ্য, ২৬ অগস্টের বিপর্যয়ের কারণ নিয়েও প্রথমে ভূমিকম্পকে দায়ী করা হলেও পরে বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণে হিমবাহ বা পাহাড়ি বরফ-পাথরের ধসকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে। ফলে নতুন কম্পন মানেই আগের মতো বিপর্যয় ঘটবে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনো ঠিক নয়। 
তবে উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি, ভূমিধস এবং ভূকম্পন—এই তিনের সমন্বয়ে নতুন কোনও বিপদ তৈরি হয় কি না, আপাতত সেদিকেই নজর প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির।

Post a Comment

Previous Post Next Post