নির্বাচন কমিশন বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে। নির্বাচন কমিশনে ঘোরতর অনিয়মের জেরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হোক। সেই দাবিতে শীর্ষে আদালতে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। শুধু শাস্তি নয়, নির্বাচন কমিশনার হিসাবে জ্ঞানেশের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বাতিল করারও দাবি করা হয়েছে ওই মামলায়।
সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করছেন শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী নামের আইনজীবী। তাঁর দাবি, সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তাতে স্পষ্ট মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অন্য নির্বাচন কমিশনারদের উপেক্ষা করে একনায়কের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা যা সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন, যে সব নির্দেশিকা জারি করেছেন এবং ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের জন্য যে সফটওয়্যার আমদানি করেছেন, কোনওটিই অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতিতে হয়নি। শুধু জ্ঞানেশ নয়, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গার্গ এবং কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল আইটি সীমা খান্না প্রত্যেককে জনপ্রতিনিধি আইনে শাস্তি দেওয়া হোক। এমনটাই দাবি মামলাকারীর।
দিন দুই আগে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস দাবি করেছে, গত ১০ মাস ধরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের কথা রীতিমতো উপেক্ষা করছেন। গত ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি জ্ঞানেশ। ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা একযোগে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা একসুরে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। বিজেপির দিকে নিশানা করে বিরোধীদের বক্তব্য, গেরুয়া শিবির যে চুরি করেই ভোটে জিতছে, সেটা এবার প্রমাণিত হয়ে গেল। কমিশন অবশ্য অন্তর্কলহের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের অবশ্য দাবি, এই মতানৈক্য অস্বাভাবিক নয়। তবে মতানৈক্য কোনওভাবেই অন্তর্কলহে পরিণত হয়নি। এসবের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হল।
এদিকে বিতর্কের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক কর্মসূচি বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী দু’দিনে উত্তরপ্রদেশের মিরাট এবং বারাণসীতে আয়োজিত তরুণ ভোটার ও ‘জেন-জি’র সঙ্গে মতবিনিময় সংক্রান্ত ‘ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাবে’র দুটি আঞ্চলিক সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সবগুলি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, এই অনুষ্ঠান স্থগিত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অন্যান্য সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্যই ইভেন্টের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বাতিল করে দেওয়া হয়নি। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধু। এটা রুটিন প্রক্রিয়া।