পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপিতে বড় রদবদল, মহিলা মোর্চার দায়িত্বে অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু



পুজোর পরই রাজ্যে পুরভোটের দামামা বেজে যাবে। আর তার আগেই রাজ্য বিজেপির খোলনলচে বদলে ফেলা হল। শুক্রবার বিরাট রদবদল ঘোষণা করল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সংগঠনের মহিলা, যুব, ওবিসি মোর্চা থেকে শুরু করে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, রাজ্য সম্পাদক সর্বত্র নতুন মুখ। ‘এক পদ এক ব্যক্তি’ নীতি মেনে বিভিন্ন পদে এই পরিবর্তন বলে সূত্রের খবর। সেই নীতিতে সাংগঠনিক পদ থেকে বাদ পড়লেন তিন মন্ত্রী – তাপস রায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও অগ্নিমিত্রা পাল। দীর্ঘদিন গেরুয়া শিবিরে একনিষ্ঠ সৈনিক থাকার পুরস্কার হিসেবে বড় চমক মহিলা মোর্চা সভানেত্রী পদে অভিনেত্রী অঞ্জনা বসুর আগমন। অগ্নিমিত্রার বদলে তিনি মহিলা বিজেপির সর্বময় কর্ত্রী হলেন।
বিজেপিতে রদবদল নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন রাজ্য ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতারা। শেষমেশ তা কার্যকর হল। শুক্রবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা জানানো হল। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি পদে বেহালা পশ্চিমের ইন্দ্রনীল খাঁ’র বদলে এসেছেন বিধায়ক অমিত সামন্ত। মহিলা মোর্চার পদ থেকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এছাড়া সাত সাংগঠনিক জেলা – বারাসত, বনগাঁ, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও কাটোয়ায় জেলা সভাপতি বদল করা হয়েছে। রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়েছেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মূলত ‘এক পদ এক ব্যক্তি’ নীতি মেনে রাজ্য সংগঠনে এত বড় মাপের রদবদল হল। এর পিছনে অবশ্য আসন্ন পুরভোটও একটা বড় কারণ। এমনিতে ছাব্বিশের ভোটে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকে বিভিন্ন পুরসভায় বোর্ড ভাঙছে। বহু কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে নাগরিক পরিষেবা বিঘ্নিত। ভেঙে যাওয়া পুরসভাগুলি দখলের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্যের শাসকদল। সেই ‘মিশন’ সফল করতে রাজ্যস্তরে এই রদবদল জরুরি ছিল। সরকার গঠনের ৫ মাসের মধ্যেই সেই কাজ সম্পূর্ণ হল।

Post a Comment

Previous Post Next Post