১১ বছর পর ওয়াশিংটনে শি, স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প! আলোচনায় কৃত্রিম মেধা থেকে তাইওয়ান, বাণিজ্যযুদ্ধ-বিরতির মেয়াদ কি বাড়বে ?


দীর্ঘ ১১ বছর পর ফের আমেরিকার মাটিতে পা রাখতে চলেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তাঁর তিন দিনের সরকারি সফর। আর এই সফর ঘিরেই নতুন করে নজরে এসেছে আমেরিকা-চিন সম্পর্ক। বিশেষ করে কৃত্রিম মেধা (এআই), বাণিজ্য, তাইওয়ান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শি-র আলোচনা হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা।
গত মে মাসে বেজিঙে মুখোমুখি বৈঠকের পর চলতি বছরেই ফের মুখোমুখি হতে চলেছেন ট্রাম্প এবং শি। চিনের বিদেশ মন্ত্রক ও হোয়াইট হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমেরিকায় থাকবেন চিনা প্রেসিডেন্ট। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে খোদ ট্রাম্পই ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ়’-এর টারম্যাকে দাঁড়িয়ে শি-কে অভ্যর্থনা জানাবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে শি-কে পূর্ণ সামরিক সম্মান এবং ২১ তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে। এরপর রোজ় গার্ডেনে সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। পরে ওভাল অফিস এবং ক্যাবিনেট রুমে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে আমেরিকা-চিন বাণিজ্য সম্পর্ক, প্রযুক্তি ও এআই, তাইওয়ান-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিশেষ নজর রয়েছে দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধের উপরেও। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও বেজিঙের মধ্যে শুল্ক নিয়ে টানাপড়েন কিছুটা কমলেও, সেই সমঝোতা কত দিন বজায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্যযুদ্ধ-বিরতির মেয়াদ বাড়ানো বা আরও স্থায়ী কোনও সমঝোতার পথ খোঁজা হয় কি না, সে দিকেও নজর থাকবে।
প্রযুক্তি ক্ষেত্রও হতে চলেছে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে কৃত্রিম মেধা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমেরিকা ও চিনের প্রতিযোগিতা গত কয়েক বছরে আরও তীব্র হয়েছে। ফলে এআই প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রযুক্তি-বাণিজ্য নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু সরকারি বৈঠক নয়, শি-র সফরের নৈশভোজেও থাকছে চমক। বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে আমেরিকার শীর্ষ শিল্পপতি ও প্রযুক্তি সংস্থার কর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা। তালিকায় রয়েছেন টেসলা-কর্তা ইলন মাস্ক, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, অ্যাপল-কর্তা টিম কুক এবং এনভিডিয়া-র সিইও জেনসেন হুয়াং। গত মে মাসে ট্রাম্পের চিন সফরেও মাস্ক, কুক এবং হুয়াং তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
শুক্রবার সকালে ফের বৈঠক ও অধিবেশন রয়েছে। বিকেলে চা-চক্র এবং ‘ন্যাশনাল আর্কাইভস’ পরিদর্শনের পর চিনের প্রতিনিধিদল আমেরিকা ছাড়বে। ১১ বছর পর শি-র এই ওয়াশিংটন সফর তাই শুধু সৌজন্য সফর নয়, আমেরিকা-চিন সম্পর্কের আগামী গতিপথের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post