৫ কোটিতে ধর্ষণের মামলা ধামাচাপা দেওয়ার ‘সেটিং’! পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধোনা বিজেপির


চণ্ডীগড়: ধর্ষণ মামলা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ৫ কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে পঞ্জাবে। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের স্ত্রী গুরপ্রীত কৌরের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে সামনে রেখে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই নিশানা করেছে বিজেপি। দলের অভিযোগ, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ধর্ষণ মামলা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়ার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। 
অভিযোগটির সূত্রপাত প্রাক্তন পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের বিচারপতি রণজিৎ সিংয়ের করা একটি অভিযোগ থেকে। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) বিষয়টি আমলে নেয়। কমিশন পঞ্জাবের মুখ্যসচিব এবং পুলিশের ডিজিপিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দুই সপ্তাহের মধ্যে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (ATR) জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মহিলা সুরক্ষা বিভাগকেও জানানো হয়েছে। 
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার বিজেপি দাবি করে, ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার বা দুর্বল করে দেওয়ার বিনিময়ে কয়েক কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের পিছনে একটি বৃহত্তর ‘সিন্ডিকেট’ থাকতে পারে। দলটি এই বিষয়ে স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে। 
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গুরপ্রীত কৌর। তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে এবং মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করতেই এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রমাণ পেশ করার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রাক্তন বিচারপতি রণজিৎ সিংকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে তাঁর অভিযোগের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। 
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টিও বিজেপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পঞ্জাবের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। NHRC-র তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসার পরই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে। 
তবে এখনও পর্যন্ত ৫ কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post