জার্মানির আঞ্চলিক নির্বাচনে ফের বড় ধাক্কা খেল চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ়ের রক্ষণশীল দল ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন’ (সিডিইউ)। সোমবার প্রকাশিত আরও দুই প্রদেশের ভোটের ফলে একটিতে জয় পেয়েছে বামপন্থী ‘ডি লিংকে’, অন্যটিতে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে অভিবাসনবিরোধী অতিদক্ষিণপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)। পর পর এই ফলাফলকে রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দু’সপ্তাহ আগে পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট প্রদেশের ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছিল এএফডি। সিডিইউ পেয়েছিল ১৭.২ শতাংশ ভোট। সেই ফলের পর এ বার বার্লিন এবং মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ার ফলেও সিডিইউ প্রত্যাশিত সাফল্য পেল না।
রাজধানী বার্লিনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে ‘ডি লিংকে’। তাদের ভোটের হার ২৫.৩ শতাংশ। সিডিইউ পেয়েছে ১৯ শতাংশ এবং এএফডি ১৬ শতাংশ ভোট। বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এসপিডি)-র ভোট ১২.১ শতাংশ। গণনা পুরোপুরি শেষ না হলেও ‘ডি লিংকে’-র জয় নিশ্চিত বলে জানা গিয়েছে।
ফলাফলের প্রবণতা স্পষ্ট হওয়ার পরই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ‘ডি লিংকে’-র প্রার্থী এলিফ এরাল্প। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আজ থেকে আমরা সকলে মিলে বার্লিনকে বদলে দেব।’’
অন্য দিকে, উত্তর-পূর্ব জার্মানির মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে এএফডি। ফলে স্যাক্সনি-আনহাল্টের পর আরও একটি প্রদেশে অতিদক্ষিণপন্থী দলটি নির্বাচনে প্রথম হল। তিনটি প্রদেশের সাম্প্রতিক ফল মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, দু’টি জায়গাতেই এএফডি সর্বাধিক ভোট পেয়েছে।
এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আঞ্চলিক ভোটে সিডিইউর ফলাফল এবং এএফডি-র ভোটের হার—দুই দিকই নজরে রাখছেন জার্মানির রাজনৈতিক মহল। মার্জ়ের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল শিবিরের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, আঞ্চলিক স্তরে দলটির ভোটব্যাঙ্কে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তার মোকাবিলা কী ভাবে করা হবে।