রেল জানাচ্ছে, নতুন ব্যবস্থায় মূলত তিনটি অংশ রয়েছে—গারবেজ ড্রপ বক্স, একটি সংযোগকারী ব্যবস্থা এবং কোচের নীচে বসানো বড় আকারের ‘আন্ডারগিয়ার কালেক্টর’। যাত্রীরা কোচের ভিতরের নির্দিষ্ট ড্রপ বক্সে আবর্জনা ফেলবেন। সেখান থেকে তা সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোচের নীচে থাকা কালেক্টরে’ চলে যাবে। যাত্রা শেষে রক্ষণাবেক্ষণের সময়ে ওই সংগ্রাহক একেবারে খালি করা যাবে।
বর্তমানে ট্রেনে ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থায় ধারণক্ষমতা প্রায় ১৮ লিটার। ফলে দীর্ঘ যাত্রায় বিন দ্রুত ভর্তি হয়ে যায়। তা সময়মতো খালি করা না হলে কোচের ভিতরে আবর্জনা ছড়িয়ে পড়া, দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন ব্যবস্থায় সেই সমস্যার মোকাবিলাই মূল লক্ষ্য। ৩৬৭.৪ লিটার ধারণক্ষমতা বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় ২০ গুণেরও বেশি। ফলে একই যাত্রায় অনেক বেশি পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করে রাখা সম্ভব হবে।
রেলের দাবি, কোচের নীচের অব্যবহৃত জায়গাকে কাজে লাগিয়েই নতুন সংগ্রাহকটি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে কোচের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্ডারগিয়ার বা কাঠামোগত অংশে কোনও পরিবর্তন করতে হবে না। সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি তৈরি হয়েছে স্টেনলেস স্টিল দিয়ে। ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পাশাপাশি মরচে প্রতিরোধ এবং স্থায়িত্বও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ব্যবস্থার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, চলন্ত ট্রেনে বার বার হাতে করে আবর্জনা সরানোর প্রয়োজন কমে যাবে। দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় একাধিক বার বর্জ্য সংগ্রহ ও বহনের ঝক্কি কমলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজও কিছুটা সহজ হবে। একই সঙ্গে কোচের ভিতরে বিন উপচে পড়া অথবা আবর্জনা রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
রেল জানাচ্ছে, পরিদর্শনের সময়ে আরডিএসও কোনও পরিবর্তনের পরামর্শ দিলে তা প্রয়োজন মতো পরিবর্তন করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। রেল জানিয়েছে, প্রতিটি নতুন ডিসপোজ়াল ইউনিট তৈরিতে আনুমানিক ১২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। প্রতিটি কোচে দু’টি করে এমন ইউনিট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে—কোচের দু’টি প্রান্তে। আরডিএসও-র অনুমোদনের পরে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের ফলাফল বিচার করে এই ব্যবস্থা আরও কোচে চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।