বাড়ল বাড়িতে তৈরি আমিষ, নিরামিষ থালির খরচ! পেঁয়াজ, ব্রয়লার মুরগির দামেই কি আগুন ভারতের হেঁশেলে? কী রয়েছে ক্রিসিলের রিপোর্টে?


নিজস্ব প্রতিবেদন: বাজারদরের চাপে ফের বাড়ল সাধারণ মানুষের হেঁশেলের খরচ। বাড়িতে তৈরি নিরামিষ এবং আমিষ—দুই ধরনের থালিরই দাম বেড়েছে। CRISIL Intelligence-এর সাম্প্রতিক ‘Roti Rice Rate’ রিপোর্টে উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের অগস্টে এক বছর আগের তুলনায় বাড়িতে তৈরি নিরামিষ থালির খরচ বেড়েছে ১ শতাংশ। আর আমিষ থালির খরচ বেড়েছে ৫ শতাংশ।
CRISIL-এর হিসাব অনুযায়ী, অগস্টে একদিকে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে আমিষ থালির ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। রিপোর্ট বলছে, অগস্টে পেঁয়াজের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে কেজি-পিছু প্রায় ৪০ টাকা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে মার্চ-এপ্রিল মাসের অকাল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির জেরে দেরিতে ওঠা ফসল এবং মজুত পেঁয়াজের ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহে টান পড়ে। পাশাপাশি রবি মরসুমের উৎপাদনও প্রায় ৫-৬ শতাংশ কমেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু পেঁয়াজ নয়, রান্নার তেল ও LPG-এর দামও থালির খরচ বাড়িয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ভোজ্য তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ এবং LPG সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। CRISIL-এর মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য এর অন্যতম কারণ।
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। অগস্টে আলুর দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ এবং টম্যাটোর দাম প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে। আলুর ক্ষেত্রে রবি উৎপাদন ২-৩ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি বেশি জমিতে চাষ হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে, গ্রীষ্মকালীন টম্যাটোর চাষ এক মাস পিছিয়ে যাওয়ায় জুলাই-অগস্টে বাজারে জোগান বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে টম্যাটোর দাম কিছুটা নেমেছে।
আমিষ থালির ক্ষেত্রে অবশ্য মূল চাপ এসেছে ব্রয়লার মুরগির দাম থেকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অগস্টে ব্রয়লারের দাম গত বছরের তুলনায় আনুমানিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। আর CRISIL-এর হিসাবের নিরিখে আমিষ থালির মোট খরচের প্রায় অর্ধেকই আসে ব্রয়লার মুরগি থেকে। ফলে মুরগির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমিষ থালির খরচে।
তবে মাসিক হিসাবে ছবিটা কিছুটা আলাদা। জুলাইয়ের তুলনায় অগস্টে নিরামিষ থালির খরচ ১ শতাংশ বাড়লেও আমিষ থালির খরচ প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। অগস্টে ব্রয়লারের দাম মাসিক হিসাবে আনুমানিক ৪ শতাংশ কমেছিল। শ্রাবণ মাসে আমিষ খাবারের চাহিদা কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে CRISIL।
অর্থাৎ, সামগ্রিক ভাবে অগস্টে ভারতের হেঁশেলে খরচ বৃদ্ধির নেপথ্যে পেঁয়াজ, রান্নার তেল ও LPG-এর মতো উপকরণের দাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আর আমিষ থালির ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে ব্রয়লার মুরগি। ফলে বাজারে আলু-টম্যাটোর দাম কিছুটা কমলেও সেই স্বস্তি পুরোপুরি পৌঁছয়নি সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে।

Post a Comment

Previous Post Next Post