দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ছোট বাজেটের পুজোগুলিকে সরকার আর্থিক সাহায্য করবে। তাঁদের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে অনুদানের ব্যবস্থা থাকবে। অন্যদিকে বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অর্থ না নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শহরে একটি ভালো পুজো করতে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়। ফলে বড় পুজো কমিটিগুলি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিজেদের অর্থ জোগাড় করতে পারে বলেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা সরকারি সাহায্য নেবেন না, তাঁদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানো হবে। আর যেসব ছোট পুজোর ক্ষেত্রে এই টাকা প্রয়োজন, তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করে অনুদান পেতে পারবে।
কোন কোন পুজো অনুদান নেবে না?
এখন পর্যন্ত যে নামগুলি সামনে এসেছে— ১. সন্তোষপুর লেক পল্লি- মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের পর সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এই পুজো কমিটি। ২. টালা প্রত্যয়- উত্তর কলকাতার অন্যতম পরিচিত পুজো টালা প্রত্যয়ও এবার সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩. চোরবাগান সর্বজনীন- সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চোরবাগান সর্বজনীনও। ৪. নাকতলা উদয়ন সংঘ- নাকতলা উদয়ন সংঘের নামও সরকারি অনুদান না নেওয়া পুজোর তালিকায় রয়েছে। ৫. রাজডাঙা নব উদয় সংঘ- এই পুজো কমিটির সিদ্ধান্তটি কিছুটা আলাদা। রাজডাঙা নব উদয় সংঘের চেয়ারপার্সন কেয়া ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা অন্যভাবে বিষয়টি দেখছেন। সরকারি অনুদান নেওয়ার বদলে মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে পুজোয় বিদ্যুতের বিলে ১০০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। ৬. সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার- এই পুজোর ক্ষেত্রে সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন নয়। পুজোর দায়িত্বে থাকা বিধায়ক সজল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, আগেও তাঁরা অনুদান নেননি, এবারও নেবেন না। ৭. ফুলবাগান সর্বজনীন- ফুলবাগান সর্বজনীনও সরকারি আর্থিক সাহায্য ছাড়াই এবার দুর্গাপুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
কলকাতার এই পুজোগুলির অনেকগুলিই বড় বাজেট এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ের জন্য পরিচিত। ফলে সরকারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা অনুদান নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এবার আলাদা করে নজর তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর বড় পুজোগুলির উদ্দেশে মূল বার্তা ছিল—যাঁদের নিজেদের অর্থে পুজো করার সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরা সরকারি অনুদান না নিয়ে ছোট পুজোগুলির জন্য সেই অর্থ বরাদ্দের সুযোগ করে দিন। সেই আবেদনের পরই নামী পুজোগুলির তরফে একের পর এক সিদ্ধান্ত সামনে আসছে।
ছোট পুজোর জন্য কী নিয়ম?
সরকারি সাহায্য পেতে হলে ছোট পুজো কমিটিগুলিকে সংশ্লিষ্ট থানায় আবেদন করতে হবে। সেই আবেদন যাচাইয়ের পর তালিকা সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এরপর নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়ায় অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। অর্থাৎ, এবারের দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে বড় ও ছোট পুজোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা হচ্ছে। বড় বাজেটের পুজোগুলিকে স্বেচ্ছায় সরকারি সাহায্য ছাড়ার আবেদন, আর ছোট পুজোগুলির জন্য ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা—এই নীতিতেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। আর সেই ঘোষণার পরই সন্তোষপুর থেকে টালা, নাকতলা থেকে ফুলবাগান—একাধিক পরিচিত পুজোর ‘অনুদান নেব না’ সিদ্ধান্ত এবারের পুজোর আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।