নিজস্ব প্রতিবেদন: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হাওড়ার একাধিক এলাকা। কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও আবার নর্দমার নোংরা জল ঢুকে পড়েছে বাড়িতে। দীর্ঘ সময় ধরে জল জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় পাম্প চালিয়ে জল সরানোর পাশাপাশি দমকলকেও নামাতে হয়েছে বলে খবর।
শিবপুর-সহ হাওড়ার একাধিক এলাকায় জল জমে থাকার ঘটনায় সরব হয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় কাজ হয়নি। ফলে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। রুদ্রনীলের দাবি, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে হাওড়ার নিকাশি পরিকাঠামোর যথেষ্ট উন্নয়ন হয়নি। সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুধু শিবপুর নয়, উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাতেও একই ছবি। সালকিয়া, বামুনগাছি-সহ বেশ কিছু এলাকায় দিনের পর দিন জল জমে থাকায় ক্ষোভে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বামুনগাছি ব্রিজের কাছে বেনারস রোড অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে ভারী বৃষ্টির পর জল দ্রুত নেমে গেলেও এখন দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে থাকছে।
জল জমার অন্যতম কারণ হিসেবে নিকাশি ব্যবস্থা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। হাওড়া পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি পথে জল ঠিকমতো পাস করতে না পারায় সমস্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত পাম্প বসিয়ে জল নামানোর চেষ্টা চলছে।
এদিকে রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য, বহু বছরের জমে থাকা নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না। তাঁর দাবি, হাওড়ার নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য বৃহৎ পরিকাঠামোগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। সম্প্রতি প্রায় ৪,৭০২ কোটি টাকার একটি নিকাশি মাস্টার প্ল্যানের কথাও সামনে এসেছে, যার মাধ্যমে আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পিং পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেও মূল সমস্যাটি থেকে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জলযন্ত্রণা। রাস্তার জল না নামায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও আবার জলমগ্ন রাস্তার গর্তে পড়ে টোটো ও রিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে দ্রুত জল সরানো এবং দীর্ঘমেয়াদি নিকাশি সংস্কারের দাবিই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।