ছ’মাস ধরে চলা সংঘাতের আবহে অবশেষে কি আলোচনার দরজা খুলতে চলেছে পশ্চিম এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে? নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিক্স সম্মেলনের মঞ্চে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধিদের বৈঠক ঘিরে তেমনই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহয়ানের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দু’দিনের ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন পেজ়েশকিয়ান। রবিবার ইরানে ফেরার আগে আমিরশাহির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে পেজ়েশকিয়ানের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আবু ধাবির যুবরাজের সঙ্গে তাঁর ‘খুব ভাল আলোচনা’ হয়েছে। অতীতের তিক্ততা পিছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর বিষয়ে দু’পক্ষ একমত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত মার্চ থেকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের সেই টানাপড়েনের পর নয়াদিল্লির ব্রিক্স সম্মেলনের মঞ্চে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই কথোপকথন তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও শান্তিচুক্তি বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা হয়নি, তবু ‘অতীতকে পিছনে রেখে ভবিষ্যতের দিকে তাকানো’র বার্তা কূটনৈতিক মহলে আশার সঞ্চার করেছে।
শুধু আমিরশাহি নয়, ব্রিক্স সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়া ও চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেজ়েশকিয়ান। তবে সেগুলি মূলত সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, আগামী দিনে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। ফলে নয়াদিল্লির ব্রিক্স সম্মেলন শুধু বহুপাক্ষিক কূটনীতির মঞ্চ হিসাবেই নয়, ইরান-আমিরশাহি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।