চাকরির প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাহার, ওরাকল-সহ ২২টি সংস্থাকে দু’বছর পড়ুয়া নিয়োগ করতে দেবে না দেশের ২৩টি আইআইটি!


চাকরির প্রস্তাব দিয়েও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল দেশের ২৩টি আইআইটি। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ওরাকল-সহ মোট ২২টি সংস্থাকে আগামী দু’বছর আইআইটি ক্যাম্পাসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্নাতক হতে চলা পড়ুয়াদের চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার পরেও নির্দিষ্ট সময়ে নিয়োগপত্র না দেওয়া বা চাকরির প্রস্তাব কার্যকর না করার অভিযোগ উঠেছে ওই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
দেশের ২৩টি আইআইটি মিলিয়ে ১৫০টিরও বেশি চাকরির প্রস্তাব কার্যকর হয়নি বলে খবর। অর্থাৎ, একাধিক পড়ুয়া ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাব পেলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র পৌঁছয়নি। এর ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেক ক্ষেত্রে অন্য চাকরির সুযোগও হাতছাড়া হয়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের স্বার্থ রক্ষায় সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআইটিগুলি।
সূত্রের খবর, কয়েকটি সংস্থা একসঙ্গে ১০-১৫ জন পর্যন্ত পড়ুয়াকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার পরেও পরে নিয়োগ করেনি। কোথাও চাকরির অফার দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে, আবার কোথাও পড়ুয়াদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এই ধরনের একাধিক ঘটনার পরেই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইআইটিগুলি।
গত বছরও একই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ১০ থেকে ১১টি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছিল আইআইটিগুলি। তবে চলতি বছরে অভিযোগের সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সংখ্যা আরও বেড়েছে। এ বার মোট ২২টি সংস্থাকে আগামী দু’টি প্লেসমেন্ট মরসুমে আইআইটি ক্যাম্পাসে নিয়োগের জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ওই সংস্থাগুলি আগামী দু’বছর আইআইটি পড়ুয়াদের ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে অংশ নিতে পারবে না।
জানা গিয়েছে, আইআইটিগুলির চাকরি ও ইন্টার্নশিপ সংক্রান্ত বিষয়গুলির মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘এআইপিসি’ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি মাসের গোড়ায় আইআইটি গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই ২২টি সংস্থার বিরুদ্ধে আগামী দু’বছর ‘অসহযোগিতা’র সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ বা কালো তালিকাভুক্তি হিসেবে উল্লেখ করতে চাইছে না আইআইটিগুলি। এর পরিবর্তে ‘অসহযোগিতা’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে আগামী দুই প্লেসমেন্ট সিজনে আইআইটি ক্যাম্পাসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হতে পারে বলেও খবর। এরপর আগামী দুই নিয়োগ মরসুমে ওই সংস্থাগুলির সঙ্গে ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট সংক্রান্ত কোনও সহযোগিতা না করার প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।
আইআইটি পড়ুয়াদের জন্য ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু সংস্থা পড়ুয়াদের নিয়োগের জন্য আগে থেকেই চাকরির অফার দেয়। সেই অফারকে ভিত্তি করে পড়ুয়ারা পরবর্তী পরিকল্পনা করেন এবং অন্য চাকরির সুযোগও অনেক সময় ছেড়ে দেন। ফলে অফার পাওয়ার পরেও সংস্থা যদি নিয়োগ না করে, তা হলে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সেই কারণেই এ বার সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সমন্বিত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটল দেশের ২৩টি আইআইটি।
আইআইটিগুলির এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দু’বছর সংশ্লিষ্ট ২২টি সংস্থার সঙ্গে ক্যাম্পাস নিয়োগের দরজা কার্যত বন্ধ থাকছে। একই সঙ্গে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাগুলিকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তাও দেওয়া হল বলে মনে করা হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post