‘চোপ! এটা থানা’! বর্ধমান থানার সামনে ঝগড়ায় জড়ানো বিজেপি নেতাদের ধমক পুলিশের, গোষ্ঠীকোন্দলে শোরগোল


থানার সামনে দাঁড়িয়েই তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বিজেপির দুই নেতা। একে অপরকে ‘তুইতোকারি’ করে কথা বলা থেকে শুরু করে আঙুল তুলে হুমকি—দুই গোষ্ঠীর নেতাদের এমন আচরণে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হল পুলিশকেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে থানা থেকে বেরিয়ে এসে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার দুই নেতাকেই কড়া ধমক দেন। বলেন, ‘চোপ! এটা থানা।’ অভিযোগ থাকলে লিখিত ভাবে পুলিশকে জানাতে হবে, কিন্তু থানার সামনে দাঁড়িয়ে এ ভাবে ঝগড়া করা যাবে না। পুলিশের ধমক খেয়ে শেষ পর্যন্ত সঙ্গীদের নিয়ে সেখান থেকে সরে যান দুই বিজেপি নেতা।
ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান থানার। জেলা বিজেপির সভাপতি বদলের পর থেকেই দলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এর মধ্যেই রাতের অন্ধকারে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর বিবাদ আরও প্রকাশ্যে চলে এল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে বর্ধমানের বেড় মোড় এলাকায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ৪ নম্বর মণ্ডল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। একটি মোটরবাইকও ভাঙচুর করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় দলেরই বিরোধী গোষ্ঠীর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে এক পক্ষ।
ঘটনার পর দুই গোষ্ঠীর সদস্যেরাই অভিযোগ জানাতে বর্ধমান থানায় পৌঁছন। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখোমুখি হয়ে পড়েন বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অমিতেন্দু চন্দ্র ওরফে রাজু এবং মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তী। দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বচসা।
রাজু বিজেপির বিদায়ী জেলা সভাপতি অভিজিৎ তায়ের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। তাঁর অভিযোগ, মনোজের লোকজনই ৪ নম্বর মণ্ডল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মনোজ। তাঁর বক্তব্য, ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁদের গোষ্ঠীর কেউ জড়িত নন।
এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই থানার মূল ফটকের সামনে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, দু’জনেই একে অপরের দিকে আঙুল তুলে কথা বলতে থাকেন। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে থানার সামনে তাঁদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের।
এর পরেই থানার ডিউটি অফিসার বাইরে বেরিয়ে এসে দুই নেতাকে ধমক দেন। তাঁদের উদ্দেশে কড়া গলায় তিনি বলেন, ‘চোপ! এটা থানা।’ থানার সামনে দাঁড়িয়ে এ ভাবে ঝগড়া করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। পুলিশকর্মী জানান, কারও কোনও অভিযোগ থাকলে তা লিখিত ভাবে পুলিশকে জানাতে হবে। কিন্তু অভিযোগ জানানোর জায়গায় এসে নিজেরাই বচসায় জড়িয়ে পড়া কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
পুলিশের কড়া হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। শেষ পর্যন্ত দুই বিজেপি নেতাই তাঁদের অনুগামীদের নিয়ে থানা চত্বর ছেড়ে চলে যান। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরের কোন্দল ফের প্রকাশ্যে চলে আসায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্ধমান জেলা বিজেপিতে নেতৃত্বের পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে দলের অন্দরে মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে। দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ এবং তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সেই কোন্দলকেই আরও সামনে নিয়ে এল বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post