লেক কালীবাড়ির প্রধান সেবায়েত নিতাইচন্দ্র বসু বলছেন, 'সনাতন ধর্মে পূজার্চনা ও নানা বৈদিক ক্রিয়াকর্মে কুশ অতি পবিত্র ও প্রয়োজনীয় উপাচার । যজ্ঞ থেকে শ্রাদ্ধ, তর্পণ থেকে নিত্য়পুজো - নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই কুশের ব্য়বহার কিন্তু বহুকাল ধরে প্রচলিত । দেবকর্মে বা পিতৃকর্মে, কুশের আসন আমরা ব্যবহার করে থাকি । কিংবা অন্যান্য যেসব উপাচার রয়েছে সেগুলি কিন্তু ব্যবহার করা হয় ।'
কুশের পবিত্রতা নিয়ে পুরাণে নানা কাহিনি প্রচলিত । আবার কুশের পবিত্রতার অন্য ব্যাখ্যাও রয়েছে । ভাদ্রের অমাবস্যর সঙ্গে কুশের সম্পর্কের একটি বিশেষ ব্যবহারিক তাৎপর্যও রয়েছে ।
লেক কালীবাড়ির প্রধান সেবায়েত নিতাইচন্দ্র বসু বলছেন, 'সামনেই মহালয়া । এই কুশকে কেন্দ্র করেই ভাদ্রমাসে এই বিশেষ অমাবস্যার নাম । আসল নামটি যদি কুশ অমাবস্যা । সেখান থেকেই এই নামকরণ । কুশের পবিত্রতা নিয়ে পুরাণে নানা কাহিনি প্রচলিত । মহাভারতে রয়েছে, অমৃতের সঙ্গে কুশের সম্পর্ক রয়েছে । মাতৃঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গড়ুর স্বর্গ থেকে অমৃত এনে তা কুশের ওপর রেখেছিলেন । সেই অমৃত নাগেরা চাটলে তাদের জিভ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় । কুশ তাই নিছক একটা তৃণ নয় ।'
একটি সামান্য তৃণকে ঘিরেই এভাবে একটি অমাবস্য স্বতন্ত্র পরিচয় পেয়েছে । এ দিন কুশ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। তাই এই নামকরণ।