বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা হাসিনা-কন্যার


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বাংলদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন পুতুল। বুধবারই ওই পদ ছেড়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম এবং জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। এই নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে। এর পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস-র কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পরে ইস্তফা

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে সায়মা ওয়াজেদকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত করা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদের দায়িত্ব নেন তিনি। তবে পুতুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদ থেকে পুতুলকে সরাতে চেয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র কাছে চিঠিও দেয় বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। জুলাই অভ্যুত্থানের জেরে, ২০২৪ সালে, আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পরে হাসিনার পাশপাশি পুতল-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল ইউনূসের সরকার। তাদের দাবি, কোনও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুতুলকে ওই পদে বসিয়েছিলেন হাসিনা।

তবে, অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার তদন্ত শুরু হতেই পুতুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সেই সঙ্গেই তাঁকে ‘অবৈতনিক ছুটি’তে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বুধবার পর্যন্ত ‘অবৈতনিক ছুটি’তে ছিলেন পুতুল। তবে ওই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বাস হারিয়েছেন পুতুল!

পুতুলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও করা হয়েছে। সেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা চিন ভ্রমণে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ।

এরই সঙ্গেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর ‘আস্থা ও বিশ্বাস’ হারানোর কথাও উল্লেখ করেছেন পুতুল। রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গেব্রেয়াসুস-র কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্রে সায়মা জানিয়েছেন, যে কাজের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছিল তা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন তিনি। তবে যেহেতু তাঁকে তাঁর দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে সেই কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর ‘আস্থা ও বিশ্বাস’ হারিয়েছেন তিনি। প্রায় এক বছর বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানোর কারণে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই এই পরিস্থিতিতে ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

তবে এই বিষয়ে আরও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি হাসিনা-কন্যা।

Post a Comment

Previous Post Next Post