বাংলাদেশে বাড়ি ফিরেছিলেন নানা কারণে। কেউ ব্যবসার কাজে, কেউ নির্মাণক্ষেত্রে, আবার কেউ পড়াশোনার সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (ইউএই) বসবাস করছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পরই বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশি। অভিযোগ, তাঁদের ভিসা বাতিল করে দিয়েছে ইউএই কর্তৃপক্ষ। ফলে ফেরার অনুমতি না মেলায় কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না তাঁরা।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের কারণে প্রায় ৪,৮০০ বাংলাদেশি ইউএই-তে ফিরতে পারেননি। ইউএই-তে প্রায় ১২ লক্ষ বাংলাদেশি বসবাস করেন। ভারত ও পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ থেকেই সেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ যান। তাঁদের বড় অংশ নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিবহণের মতো ক্ষেত্রে কর্মরত।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোনও আগাম সতর্কতা বা নির্দিষ্ট কারণ না জানিয়েই বেশ কিছু বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি ইউএই কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছে ঢাকা। ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
এমনই সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক আবুল কালাম আজ়াদ। প্রায় ২৭ বছর ধরে ইউএই-তে বসবাস করছেন তিনি। গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে ফেরার পর ২৪ জুলাই একটি ই-মেল পান। সেখানে তাঁর ভিসা বাতিলের কথা জানানো হয়। কিন্তু কেন ভিসা বাতিল করা হল, সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
আবুলের মতো আরও অনেক বাংলাদেশি সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সরকারি আধিকারিকদের বৈঠকও হয়েছে। ভিসা বাতিলের ফলে কর্মসংস্থান ও আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তার দাবিও উঠেছে। এমনকি ইউএই-তে কাজের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এত সংখ্যক বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণের কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না মেলায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।