‘চাকরি ছাড়ুন, নাহলে মরুন’, লস্করের হুমকিতে উদ্বিগ্ন ৭০০০ কাশ্মীরি পণ্ডিত


ফের আতঙ্কের আবহ জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায়। কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। হুমকির জেরে প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের অধীনে উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭,০০০ কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ULC/ULF)-এর নামে একাধিক হুমকিপত্র ছড়িয়েছে। সেখানে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। অন্যথায় তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গত কয়েক সপ্তাহে এমন অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু হুমকিপত্র নয়, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যও অনলাইনে ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য কী ভাবে বাইরে এল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং এফআইআর করার দাবিও উঠেছে বলে প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
এই হুমকির ঘটনায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যে অতীতের আতঙ্কও নতুন করে ফিরে এসেছে। ১৯৯০-এর দশকে জঙ্গি হিংসা ও হুমকির জেরে বিপুল সংখ্যক কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ফলে বর্তমানে উপত্যকায় কর্মরত পণ্ডিত কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে হুমকির ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এরই মধ্যে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা সম্প্রতি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের উদ্দেশে আসা হুমকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেন নির্দিষ্ট ভাবে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই লক্ষ্য করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি এই ধরনের হুমকির পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে, নতুন হুমকির ঘটনায় উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা ফের আলোচনার কেন্দ্রে। প্রশাসনের তরফে হুমকির উৎস এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়, এখন সেদিকেই নজর।

Post a Comment

Previous Post Next Post