রাজ্যের গুন্ডাদমন বিলে সম্মতি না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাত থাকায় বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। তা নিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আইনি সংস্থান দেখেই বিল কার্যকর করার পথে রাজ্য এগোবে। তাঁর বক্তব্য, ‘গুন্ডাদমন আইন আরও চারটি রাজ্যে আছে। আমরা আইনি পথেই কাজ করব। অসুবিধা কিছু হবে না।’
বিল ফেরত আসায় রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘পোস্টারে ডবল ইঞ্জিন, কাজে রিভার্স গিয়ার! হোমওয়ার্ক ফেরত, সংশোধনের নির্দেশ।’ তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে যা বলছে, বলতে দিন! গুন্ডারা এখন ভয় পেয়েছে, তাই এ সব বলছে। বাকিটা আমরা বুঝে নেব। গুন্ডারা যাতে ভয়ে থাকে, জেলে যায়, রাজ্য সরকার তার ব্যবস্থা করবে। এখনও পর্যন্ত যা বলেছি, তা-ই হয়েছে। তা-ই হবেও।’
গুন্ডাদমন বিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ফেরত পাঠানো নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তির কারণেই বিলটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের গুন্ডাদমন বিলের একটি অংশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনের সরাসরি সংঘাত হচ্ছে। কেন্দ্রের পাঠানো নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘গুন্ডাদমন’ বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দের যে সংজ্ঞা রয়েছে, মূল বিবাদ তা নিয়েই। প্রস্তাবিত বিলের ‘বি’ ধারায় ‘গুন্ডা’ শব্দের সংজ্ঞার মধ্যে এমন ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যিনি মাদক সংক্রান্ত অপরাধে (নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্টেন্সেস আইন বা এনডিপিএস, ১৯৮৫ অনুযায়ী) অভিযুক্ত। কিন্তু এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের ১৯৮৮ সালের ‘পিআইটিএনডিপিএস’ আইনের সঙ্গে মিলে যায়। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের আইনের সঙ্গে রাজ্যের আইনের সংঘাত হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রের বক্তব্য, যে হেতু মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও প্রতিরোধমূলক আটক (প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন) নিয়ে কেন্দ্রীয় আইন আগে থেকেই রয়েছে, তাই একই বিষয়ে রাজ্য আইন আনলে তা সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বৈপরীত্য বা বিরোধ তৈরি করতে পারে। এই কারণেই কেন্দ্র সুপারিশ করেছে, সংঘাত এড়াতে ‘গুন্ডাদমন’ বিল থেকে এনডিপিএস আইন সংক্রান্ত ধারাটি বাদ দিয়ে ফের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো যেতে পারে।