ঘাটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর (West Midnapore) ঘাটালে প্লাবন শঙ্কা, সমস্যায় স্থানীয়রা। জলাধার থেকে ছাড়া জলে জল বেড়েছে শিলাবতী নদীতে। আর সেই নদীর জলেই ভেসেছে ঘাটাল (Ghatal Water Logging) শহর। ডুবেছে রাজ্য সড়ক, জলে ডুবেছে রাস্তাঘাট থেকে চাষের জমি সবই। ডুবেছে বহু দোকান। ঘাটাল পুরসভার মোট দশটি ওয়ার্ডে জল ঢুকেছে। কোথাও কোথাও তো জল পেরোত চলছে ডিঙি নৌকা। আরও বৃষ্টি হলে বাড়বে দুর্ভোগ, আশঙ্কা স্থানীয়দের।
বছরের পর বছর ধরে ঘাটালের জলযন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কথা শোনা গিয়েছে বিধায়ক দেবের মুখে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হলেও, তা এতটাই ধীরগতিতে এগিয়েছে যে, আদপেও কিছু লাভের লাভ হয়নি ঘাটালবাসীর। ছবিটা প্রত্যেক বছর একই থাকে। এবার নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তারপরেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে নিজেদের প্রথম বাজেটে বড় ঘোষণা করেছিল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার।
বাজেট পেশ করার সময়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করার জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন। আশার কথা শুনিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেছিলেন যে, প্রত্যেকবার ঘাটালের যে পরিস্থিতি হয়, তা আর হবে না। ঘাটালের জন্য বড় অঙ্ক বরাদ্দ হয়েছে বাজেটে। আর সেই কারণেই, এবারের বাজেটে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়ে গেল, ঘাটাল। তবে এ বছরে অন্তত যে পরিস্থিতির কোনওরকম বদল ঘটেনি, সেই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে গেল।
অবশ্য শুধু ঘাটালে নয়, বানভাসি পরিস্থিতি রাজ্যের জেলায় জেলায়। টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা। বুধবারের ভারী বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবারও শহরের আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। তবে আবহাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন হয়েছে নিম্নচাপের অবস্থানে। যে নিম্নচাপের প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বেড়েছিল, সেটি এবার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে মধ্যপ্রদেশের দিকে চলে গিয়েছে। ফলে বাংলার উপর নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব আপাতত অনেকটাই কমেছে।
তবে এখানেই স্বস্তি মিলছে না। নিম্নচাপ এবং তার সঙ্গে যুক্ত উচ্চবায়ুস্তরের অক্ষরেখার প্রভাবে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ আরও সক্রিয় হয়েছে। তার জেরেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি চলতে পারে। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া ও বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবারের মতো ব্যাপক বৃষ্টি সব জায়গায় না হলেও দফায় দফায় বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। ফলে শহরের নিচু এলাকা, জল জমার প্রবণ রাস্তাঘাট এবং যান চলাচলের ক্ষেত্রে ফের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।