পরীক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দেশের পাবলিক ও বোর্ড পরীক্ষার পরিকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে কেন্দ্রের তরফে তৈরি হয়েছে ‘হাই-পাওয়ার্ড টাস্ক ফোর্স’। সেই উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ বার পশ্চিমবঙ্গের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে স্কুলগুলির মতামত সংগ্রহ শুরু করেছে।
সংসদ স্বীকৃত সমস্ত স্কুলের প্রধানশিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা সংসদ সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে বোর্ড পরীক্ষা কম্পিউটার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে নেওয়া সম্ভব কি না, বছরে একাধিক বার পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না এবং বর্তমান পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন বিষয়ের নম্বরের ‘ওয়েটেজ’ কী ভাবে নির্ধারণ করা হবে— তা নিয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।
শুধু পরীক্ষা পদ্ধতিই নয়, পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও পরীক্ষাভীতি কমানো, বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং আঞ্চলিক ভাষায় পরীক্ষার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতের পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও শিক্ষার্থী-বান্ধব করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে শিক্ষক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের বক্তব্য, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সেমেস্টার ব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্রের ধরনে পড়ুয়াদের বৌদ্ধিক বিকাশ যথেষ্ট হচ্ছে না। পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে স্কুলের প্রধানশিক্ষকদের কাছ থেকে যে সমস্ত সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে, তার কতটা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। ফলে স্কুলগুলির মতামত সংগ্রহের পর পরীক্ষা ব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষামহলের।