ভোটে হারের পর এই প্রথম। দীর্ঘ আইনি লড়াই পেরিয়ে শনিবার প্রথম কলকাতার বাইরে জেলায় জনসভা মমতার। মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে এদিন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘চেনা’ হুঙ্কার শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। বিরোধী কণ্ঠ হয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলকে বিঁধে অলআউট আক্রমণ চালিয়ে গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে পালাবদলের পর শ্রীরামপুরের প্রতিবাদ সভা থেকে হকারদরে উচ্ছেদ নিয়ে গর্জে ওঠেন মমতা। এদিন মঞ্চ থেকেই কর্মহীনদের পাশে দাঁড়িয়ে কোর্টে লড়ার বার্তা দেন তিনি। সেই সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার বঞ্চনা নিয়েও সুর চড়ান কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো।
শুক্রবার শ্রীরামপুরে কোর্ট ময়দান চত্বরে মমতার সভার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ছিল রাজনৈতিক চাপানউতোর। সভার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে কালীঘাটের বাড়িতে দাঁড়িয়ে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী বিজেপির বিরুদ্ধে সভায় যেতে না দেওয়া অভিযোগ তোলেন। বাড়িতে নজরবন্দি করে রাখার অভিযোগ তুলে পুলিশকে বিঁধেছিলেন একযোগে। এদিন শ্রীরামপুরের প্রতিবাদ সভায় দাঁড়িয়েও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। শহরে থেকে জেলায় হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে বিজেপির অত্যাচারকে ‘নরকের’ সঙ্গে তুলনা করে মমতা বলেন, “যাদের ক্ষমতা, প্রভাব আছে, তারা ভোগ করছেন। গরিব হকারদের রুজি রোজগার খেয়ে বেকার করে দিচ্ছেন। এসআইআরে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। গরিব মানুষ নাম বাদে রেশন পাচ্ছেন না, স্কলারশিপ পাচ্ছেন না। এর চেয়ে নরকেও কম অত্যাচার হয়।” শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে হকারদের হয়ে কোর্টে লড়াইয়ের বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সুর চড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “সব মানুষের জীবনযাপনের অধিকার আছে, এটা সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায় না।” তাঁর প্রশ্ন,”উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জায়গায় বসল কারা? এর উত্তর দিক সরকার।”