স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবারের মান কেমন? রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের জায়গায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে তো? প্রতিদিন ঠিক কত জন পড়ুয়া মিড-ডে মিল খাচ্ছে? স্কুলগুলিতে এই সংক্রান্ত হিসাবই বা কতটা স্বচ্ছ? এ বার এই সমস্ত বিষয় সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে স্কুলে স্কুলে আচমকা পরিদর্শনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল স্কুলশিক্ষা দফতর। আগামী সপ্তাহ থেকেই কলকাতা এবং সংলগ্ন কয়েকটি জেলায় শুরু হতে চলেছে এই ‘সারপ্রাইজ় ভিজ়িট’।
দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার স্কুলগুলিতে পরিদর্শনের জন্য যুগ্ম সচিব পর্যায়ের পাঁচ জন আধিকারিক এবং পিএম পোষণ প্রকল্পের অধিকর্তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তৈরি করা হবে। অন্য দিকে, কলকাতার বাইরে জেলাগুলিতে জেলাশাসক এবং স্কুলশিক্ষা প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে পৃথক দল স্কুল পরিদর্শনে যাবে। কোনও আগাম খবর না দিয়েই সংশ্লিষ্ট স্কুলে পৌঁছে মিড-ডে মিলের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।
পরিদর্শনের সময় মূলত খাবারের গুণমান, চালের মান, রান্নার পদ্ধতি, খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা এবং রান্নার জায়গার পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি মিড-ডে মিল পরিচালনার ক্ষেত্রে স্কুলের আর্থিক পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হবে। কোনও স্কুলে তহবিলের ঘাটতি রয়েছে কি না, নিয়মিত খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থসংক্রান্ত কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়গুলিও পরিদর্শনের আওতায় থাকবে।
দফতরের এক কর্তার কথায়, কোনও স্কুলে আর্থিক অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ সামনে এলে প্রয়োজনে পুলিশি সাহায্য নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ শুধু খাবারের মান যাচাই নয়, মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও নজরদারি চালানো হবে।
কলকাতার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে স্কুলশিক্ষা দফতর। বর্তমানে শহরের পাঁচশোরও বেশি স্কুলে ইসকনের তরফে মিড-ডে মিলের খাবার সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে, বাকি স্কুলগুলিতে আগের মতোই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হয়। জেলার ক্ষেত্রেও কোথাও স্কুলের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রান্না হয়, আবার কোথাও বাইরে থেকে খাবার তৈরি করিয়ে এনে পড়ুয়াদের পরিবেশন করা হয়। এই ভিন্ন ব্যবস্থাগুলির ক্ষেত্রে খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা কতটা বজায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে মাঝে মধ্যেই প্রশ্ন ওঠে।
সেই কারণেই এ বার সরাসরি স্কুলে গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করতে চাইছে দফতর। প্রথম পর্যায়ে আগামী সপ্তাহ থেকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আধিকারিকেরা পরিদর্শনে যাবেন। বাকি জেলাগুলির জন্যও পৃথক দল গঠন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু রান্না বা খাবারের মান নয়, প্রতিদিন কত জন পড়ুয়া বাস্তবে মিড-ডে মিল খাচ্ছে, তারও হিসাব নেওয়া হবে। স্কুলগুলিকে এই সংক্রান্ত যথাযথ তথ্য ও নথি দেখাতে হতে পারে। কোনও স্কুলে নথিভুক্ত পড়ুয়ার সংখ্যা এবং প্রতিদিন খাবার খাওয়া পড়ুয়ার সংখ্যার মধ্যে বড়সড় ফারাক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নজর থাকবে পরিদর্শক দলের।
এর পাশাপাশি, সব স্কুলে মিড-ডে মিল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল রয়েছে কি না, সেটিও দেখা হবে। দফতর সূত্রে খবর, আগে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে স্কুলের অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে যেত। সম্প্রতি ট্রেজ়ারির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে টাকা পৌঁছতে কিছুটা দেরি হতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে স্কুলগুলির প্রধানদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও সচেতনতা দেওয়া হবে।
দফতরের লক্ষ্য, মিড-ডে মিল প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি একটি ছবি পাওয়া। কোথাও খাবারের মান বা পরিচ্ছন্নতায় সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করা, কোথাও আর্থিক বা প্রশাসনিক সমস্যা থাকলে তার সমাধানের পথ খোঁজা এবং প্রতিদিন কত পড়ুয়া প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে, তার সঠিক হিসাব নিশ্চিত করাই এই পরিদর্শনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানা গিয়েছে।