দুই ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর সেই সংস্থা থেকে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক সংস্থায় টাকা পাঠানো হয়েছিল। টাকা তোলাও হয়েছিল সেই সব সংস্থা থেকে। শুধু তাই নয়, ED-র দাবি, ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সংস্থা 'অক্টেভ রেকর্ডসে'র অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকা ডিপোজিট করা হয়।
সেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লক্ষ টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। ইন্দ্রনীল দাবি করেছেন, রয়্যালটি বাবদ এই টাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছিল। বিবৃতি দিয়ে এমনই দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের।
ED-র দাবি, মন্ত্রী থাকাকালীন দুই ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি এবং দীপেশের সংস্থাকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার বরাত পাইয়ে দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। সেই সমস্ত সংস্থা থেকে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের সংস্থায় টাকা যায়। পরবর্তীতে ওই সব সংস্থা থেকে নগদে টাকা তোলা হয়। পরবর্তীতে ইন্দ্রনীলের সংস্থা অক্টেভ রেকর্ডসে'র অ্যাকাউন্টে আবার নগদে ৩.৮ কোটি টাকা জমা করা হয়। এর পর ওই অক্টেভ রেকর্ডসে'র অ্যাকাউন্ট থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। সেই নিয়ে গতকাল দীর্ঘ ক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইন্দ্রনীলকে। তাতে ইন্দ্রনীল জানান, 'অক্টেভ রেকর্ডস' থেকে যে টাকা মমতার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, তা রয়্যালটির টাকা। রয়্যালটি বাবদ ওই টাকা পেয়েছেন মমতা। ED-র প্রেস বিবৃতিতে মমতার থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ১ লক্ষের বেশি পাস বিক্রি হয়। 'মাস আর্টস' সংস্থাটির সঙ্গে কলকাতার বড় পুজোগুলির সঙ্গে চুক্তি হয়। ঠিক হয়, 'মাস আর্টসে'র কাছে পাস কেনা লোকজনই বড় পুজোগুলি দেখতে পাবেন। পাসের দাম রাখা হয়েছিল ১৭৪৯ টাকা থেকে ৫৪৯০ টাকা পর্যন্ত। সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা ওঠে বলে অভিযোগ। UNESCO-র নাম ভাঙিয়ে ওই পাস বিক্রি করা হয়। অথচ ওই UNESCO-র সঙ্গে কোনও চুক্তি হয়নি 'মাস আর্টসে'র। অর্থাৎ বেআইনি ভাবে UNESCO-র নাম ভাঙিয়ে ব্য়বসা চালায় ওই সংস্থা, যাতে ইন্দ্রনীলের প্রত্যক্ষ মদত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই নিয়েই তদন্ত চলছে।