ইতিহাস আলকারাজ়ের! ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নজির স্পেনের তারকার


নিজস্ব সংবাদদাতা: চোট কাটিয়ে কোর্টে ফিরেই দুর্দান্ত ছন্দে কার্লোস আলকারাজ়। ইউএস ওপেনের শেষ ষোলোয় আমেরিকার টমি পলকে সরাসরি তিন সেটে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেন স্পেনের তারকা। স্কোরলাইন ৬-৪, ৬-৩, ৬-৪। এই জয়ের সঙ্গে একাধিক নজিরও গড়লেন বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ টেনিস তারকা।
এ বারের ইউএস ওপেনে আলকারাজ়ের শুরুটা নিয়ে অবশ্য কিছুটা সংশয় ছিল। ডান কবজির চোটের কারণে প্রায় পাঁচ মাস প্রতিযোগিতামূলক টেনিস থেকে দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু নিউ ইয়র্কে ফিরেই যেন পুরনো ছন্দে স্প্যানিশ তারকা। প্রথম তিন রাউন্ডে রোমান সাফিউলিন, জেইম ফারিয়া এবং উ ইবিংকে হারানোর পর শেষ ষোলোয় টমি পলের বিরুদ্ধেও দাপট দেখালেন তিনি।
টমি পলের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক টেনিস খেলেন আলকারাজ়। প্রতিপক্ষের সার্ভিসে চাপ তৈরি করার পাশাপাশি বেসলাইন র‌্যালিতেও একাধিক দুর্দান্ত শট খেলেন তিনি। দ্বিতীয় সেটে আরও নিয়ন্ত্রণ বাড়ান। তৃতীয় সেটে পল লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেই জয় নিশ্চিত করেন স্প্যানিশ তারকা। মাত্র ২ ঘণ্টা ২১ মিনিটে শেষ হয় ম্যাচ।
এই জয়ের ফলে গ্র্যান্ড স্ল্যামে টানা ১৮টি ম্যাচ জয়ের নজির গড়েছেন আলকারাজ়। তার মধ্যে ১১টি জয় এসেছে ইউএস ওপেনে। পাশাপাশি, ইউএস ওপেনে এটি তাঁর পঞ্চম কোয়ার্টার ফাইনাল। মাত্র একটি বারই নিউ ইয়র্কের গ্র্যান্ড স্ল্যামে শেষ আটে উঠতে পারেননি তিনি—২০২৪ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে বোটিক ভান দে জান্ডসখুল্পের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, ইউএস ওপেনে আলকারাজ়ের সামগ্রিক রেকর্ডও নজরকাড়া। ২০২৬ সালের এই টুর্নামেন্টের শেষ আটে ওঠার পর ফ্লাশিং মিডোজ়ে তাঁর জয়ের রেকর্ড দাঁড়িয়েছে ২৮-৩। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওপেন যুগে পুরুষদের মধ্যে সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে ইউএস ওপেনে তাঁর জয়ের হার সর্বোচ্চ।
আলকারাজ়ের সামনে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে আমেরিকার বেন শেলটন। ঘরের কোর্টে খেলবেন শেলটন, ফলে গ্যালারির সমর্থনও থাকবে তাঁর দিকে। তবে আলকারাজ়ের আত্মবিশ্বাসও যথেষ্ট। শেলটনের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় পেয়েছেন স্পেনের তারকা।
গত বছরের ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়ন আলকারাজ় এ বারও খেতাব ধরে রাখার অন্যতম দাবিদার। চোটের পর প্রত্যাবর্তন যে তাঁর খেলায় কোনও বড় প্রভাব ফেলেনি, টমি পলের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ই তার বড় প্রমাণ। এখন নজর কোয়ার্টার ফাইনালে—শেলটনকে টপকে শেষ চারে পৌঁছে ফের ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেটাই দেখার।

Post a Comment

Previous Post Next Post