আসন বাড়ুক, নজরদারিও হোক ‘লাইভ’, এনএমসি–কে সুপারিশ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির


মেডিক্যাল কলেজে আসন বাড়লেই যে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হবে, তা নয়। ভালো ডাক্তারি শেখার জন্যে প্রয়োজন পর্যাপ্ত রোগী, প্রশিক্ষণ-পরিকাঠামো এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাও। সেই লক্ষ্যেই মেডিক্যাল শিক্ষার খরচ কমানো থেকে পিজি আসন বাড়ানো, ‘ঘোস্ট ফ্যাকাল্টি’ রোখা থেকে কলেজের পরিকাঠামোয় নজরদারি— ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)–কে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করল স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। পাঁচ বছর অন্তর পরিদর্শনের বদলে নিয়মিত ‘রিয়েল-টাইম’ ডিজিটাল মনিটরিংয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সংসদে পেশ হওয়া স্থায়ী কমিটির ১৭৬তম রিপোর্টে মেডিক্যাল শিক্ষার বর্তমান কাঠামো পর্যালোচনা করে এই সুপারিশগুলি করা হয়েছে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ শতাংশ আসনে এনএমসি–র নির্ধারিত ফি কাঠামো কঠোর ভাবে কার্যকর করার কথাও বলেছে কমিটি। শুধু টিউশন ফি নয়, অন্য চার্জ এবং ক্যাপিটেশন ফি-র উপরেও নজরদারির পরামর্শ রয়েছে।

স্নাতকোত্তর ডাক্তারি শিক্ষাতেও বড় সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এইমস–সহ ‘ইনস্টিটিউটস অফ ন্যাশনাল ইমপর্ট্যান্স’ তকমাযুক্ত মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগজ়ামিনেশন ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস)-এর আওতায় প্রায় ৮০ হাজার পিজি আসন রয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত রোগী ও পরিকাঠামো থাকলে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সের পাশাপাশি পিজি কোর্স শুরুর অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নে শর্তবলি কিছুটা শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি কলেজে শুরুর তৃতীয় বছর থেকেই পিজি কোর্স চালুর সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে শিক্ষক, রোগীর চাপ ও প্রশিক্ষণ-পরিকাঠামো পর্যাপ্ত থাকা বাধ্যতামূলক।

Post a Comment

Previous Post Next Post