নিয়মের বালাই
স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই রমরমিয়ে খাবারের ব্যবসা! জলপাইগুড়ি শহরে রাস্তার ধারে থেকে শুরু করে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট—স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার তৈরি ও পরিবেশন নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। অভিযোগ, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই রমরমিয়ে চলছে একাধিক খাবারের দোকান।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তার ধারে ছোট খাবারের দোকান থেকে শুরু করে একাধিক রেস্টুরেন্ট। কোথাও খোলা জায়গায় রান্না, কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের অভিযোগ। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই দিনের পর দিন চলছে ব্যবসা—এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
চোখ কপালে ওঠার ছবি!
অভিযোগ সামনে আসতেই এবার নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জলপাইগুড়ি মহকুমা প্রশাসন, পুরসভা এবং ফুড সেফটি দপ্তরের আধিকারিকদের যৌথ অভিযান নামে বিভিন্ন খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্টে। অভিযানে গিয়ে আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠার মতো ছবি সামনে আসে।
পচা মাছ-মাংস, ছাতা পরা সস-ক্যাডবেরি
কোথাও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বরফজমা মাছ, কোথাও মাংসের মান ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন। আবার কোনও দোকানে পাওয়া যায় নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়া সস ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ চকলেটসহ একাধিক খাদ্যসামগ্রীও নজরে আসে আধিকারিকদের।
মান-সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন
অভিযানে বেশ কিছু খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি নষ্ট করে দেওয়া হয় বেশ কিছু রান্না করা ও কাঁচা খাদ্যসামগ্রী। সেগুলি ফেলে দেওয়া হয় ডাস্টবিনে। অর্থাৎ, খাবারের দোকানে ব্যবসা চলছে ঠিকই, কিন্তু সেই খাবার কতটা নিরাপদ—তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
ডাস্টবিনে ফেলা হয় খাবার
বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তায় বা দোকানে খাবার খেতে গেলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খাবারের গুণমান নিয়ে সবসময়ই আশঙ্কা থাকে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র একদিন অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি চালানো হোক।
স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা নয়
স্থানীয়দের বক্তব্য, “মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনওভাবেই ছেলেখেলা করা উচিত নয়। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালে দোকানদাররাও সতর্ক হবেন।" কারণ, খাবারের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে মানুষের স্বাস্থ্য। এখন সেই খাবার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে বিপদ।
স্বাস্থ্যবিধির সাথে আপোস নয়
দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত মাছ-মাংস দিয়ে তৈরি হলে বিপদ সাধারণ মানুষেরই। যে প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি সদর মহকুমা শাসক মঈন আহমেদের স্পষ্ট বক্তব্য, “খাবারের দোকান চলবে, ব্যবসাও হবে। কিন্তু তার সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা যাবে না স্বাস্থ্যবিধির।"