মধ্যপ্রাচ্যে ফের বাড়ছে উত্তেজনা। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে হুথিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণ, আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন করে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন বিদেশ দফতরের পরামর্শ, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির এবং দ্রুত বদলে যেতে পারে। ফলে ওই অঞ্চলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে তা পুনর্বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
কোন কোন দেশ সতর্কতার আওতায়?
মার্কিন নির্দেশিকার আওতায় রয়েছে সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইজ়রায়েল, পশ্চিম তীর ও গাজ়া, জর্ডন, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন। অর্থাৎ মোট ১৫টি দেশ ও ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে আমেরিকার নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। মার্কিন বিদেশ দফতরের আঞ্চলিক তথ্যপৃষ্ঠাতেও এই দেশগুলির জন্য পৃথক নিরাপত্তা নির্দেশিকার উল্লেখ রয়েছে।
ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আচমকাই আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্যাহত হতে পারে বিমান পরিষেবা, বাতিল হতে পারে উড়ান। একই সঙ্গে আমেরিকার দূতাবাস, কূটনৈতিক কর্মী, ব্যবসায়ী এবং নাগরিকেরাও হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে মার্কিন বিদেশ দফতরের বর্তমান নির্দেশিকা ‘Level 3—Reconsider Travel’। সেখানে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার আশঙ্কা, সশস্ত্র সংঘাত এবং সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা শুধু রিয়াধেই সীমাবদ্ধ নয়। ইয়ানবু-সহ সৌদি আরবের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পরিকাঠামোকেও নিশানা করার দাবি করেছে তারা। এর ফলে লোহিত সাগর এবং গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।