এলাহাবাদ হাই কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে জ্ঞানেশ কুমারের আমলা-কন্যা, বঙ্গতনয়াকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ


নয়ডায় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তথা বঙ্গতনয়া আকৃতি চৌধুরীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা NSA-তে আটক করার ঘটনায় তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপম। এলাহাবাদ হাই কোর্ট ওই আটকাদেশ বাতিল করার পাশাপাশি আকৃতিকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মেধা রূপম দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনায় আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে NSA প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ ছিল, ওই আন্দোলন ঘিরে হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল। দীর্ঘ সময় তাঁকে আটক রাখা হয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন আকৃতি।
মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ ও বিচারপতি আঁচল সচদেবের বেঞ্চ আটকাদেশের প্রশাসনিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। আদালত শেষ পর্যন্ত আকৃতির বিরুদ্ধে জারি করা NSA-র নির্দেশ খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের অর্থ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বেতন থেকে আদায়ের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আকৃতিকে বেআইনি ভাবে আটক রাখার জন্য প্রশাসনিক দায়ের বিষয়টিও আদালত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে।
এদিকে আদালতের পর্যবেক্ষণে মেধা রূপমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আকৃতির বিরুদ্ধে ‘দৃষ্টান্ত স্থাপন’-এর উদ্দেশ্যে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই পর্যবেক্ষণই মামলাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কন্যা মেধা রূপম নিজে একজন প্রশাসনিক আধিকারিক। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে হাই কোর্টের এমন কড়া পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিপূরণের নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্বস্তি পেয়েছেন আকৃতি চৌধুরী।

Post a Comment

Previous Post Next Post