নারী সুরক্ষায় ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথা ফের স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পকসো-সহ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ছোট শিশু হোক বা বোন, দিদি কিংবা কোনও মহিলা—তাঁদের দিকে কেউ আঙুল তুললে সেই আঙুল ভেঙে দিতে হবে।
মঙ্গলবার কোচবিহার দিয়ে উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম কোচবিহারে গেলেন তিনি। সেখানে প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি কয়লা ও সুপারি পাচার এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়েও পুলিশকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর নির্দেশ, অসম থেকে যাতে বেআইনি ভাবে কয়লা বা সুপারি এ রাজ্যে ঢুকতে না পারে, সে দিকে নজর রাখতে হবে পুলিশকে। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের কোনও সুবিধাভোগীর কাছ থেকে টাকা তোলা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জেলে যেতে হবে বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতেই কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। মন্দির থেকে বেরিয়ে কোচবিহারের উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, উন্নয়নের কাজে অর্থের কোনও অভাব হবে না।
প্রশাসনিক বৈঠকে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, সীমান্ত সুরক্ষা, পুজোর আগে রাস্তা সংস্কার, পুরসভার পরিস্থিতি এবং বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু রাজ্যে আসছেন। সেই সময় কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে স্নায়ুরোগ এবং হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ নেই। এই পরিস্থিতির জন্য আগের বাম এবং তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে কোচবিহারের মানুষ যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বছরখানেক আগে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন কোচবিহারে গিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন শুভেন্দু। সেই সফরে খাগড়াবাড়ি মোড়ে তাঁর কনভয়ে হামলা এবং বুলেটপ্রুফ গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। ভগবান আছেন। আর আছে জনগণ।’’